কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ পুজোর আগে আপাতত স্বস্তি। কিন্তু উৎসব মিটলেই বাড়তে পারে বাসভাড়া। সরকারি-বেসরকারি, শহর-শহরতলি কিংবা দূরপাল্লা সব ধরনের বাসের ভাড়াই নতুন করে নির্ধারণের পথে রাজ্য। সোমবার বাসমালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়ে দিলেন, পুজোর আগে কোনও সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। তবে পুজোর পর ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
ভাড়া বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য, ২০১৮ সাল থেকে সরকারি ভাবে বাসের ভাড়া বাড়েনি। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য একই ভাড়া রাখা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ভাড়া বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি বাসের পরিষেবার মানও উন্নত করতে হবে। অর্থাৎ যাত্রীর পকেটের চাপ বাড়লে পরিষেবাতেও তার প্রতিফলন দেখতে চায় সরকার।
বাসভাড়া নিয়ে এই সিদ্ধান্তের আগে অবশ্য রয়েছে আরও একাধিক সমস্যা। টোলের হার নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ বাসমালিকদের। একই জেলার মধ্যেও বিভিন্ন টোলপ্লাজায় আলাদা হারে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এ দিন মন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। ওড়িশার ধাঁচে টোলের ক্ষেত্রে এক ধরনের নিয়ম চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে।
অন্য দিকে, বড় রাস্তায় টোটো চলাচল নিয়েও ফের কড়া অবস্থান নিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মূল রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধ করা হবে। টোটো চলাচলের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন নীতি প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
বাসমালিকদের আরও একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা নাইট পার্কিং। বৈঠকে সেই জট কাটানোর আশ্বাস মিলেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বকেয়া কর এবং তার উপর জমা হওয়া জরিমানার ক্ষেত্রেও কিছুটা ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী।
তবে পুজোর মরসুমে ভাড়া বাড়ছে না এটাই আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তি। কারণ উৎসবের সময়ে রাস্তায় যাত্রীসংখ্যা এমনিতেই কয়েক গুণ বাড়ে। সেই ভিড় সামলাতে পুজোর আগেই আরও প্রায় ৩০০ সরকারি বাস রাস্তায় নামানোর কথা জানিয়েছেন অর্জুন।
বৈঠক শেষে বাসমালিকদের গলাতেও তাই সন্তোষের সুর। তাঁদের বক্তব্য, টোল, পার্কিং এবং ভাড়া একাধিক সমস্যা নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এখন নজর পুজোর পরের দিকে। শেষ পর্যন্ত কতটা ভাড়া বাড়ে, সর্বনিম্ন ভাড়া কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং বাড়তি ভাড়ার বিনিময়ে পরিষেবার মান কতটা উন্নত হয়—যাত্রীদের কাছে সেটাই হবে আসল প্রশ্ন।




