কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ দলের প্রতীক নিয়ে টানাটানি ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। তার মধ্যেই এ বার লড়াই গড়াল দেশের শীর্ষ আদালতে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল কালীঘাট তৃণমূল শিবির। সোমবার সন্ধ্যায় শীর্ষ আদালতে স্পেশাল লিভ পিটিশন (এসএলপি) দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে তৃণমূলের দুই শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত এ বার নতুন করে আইনি মোড় নিল।
বিষয়টি অবশ্য নতুন নয়। একই দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা ইতিমধ্যেই দায়ের করেছে কালীঘাট শিবির। বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করে ডিভিশন বেঞ্চ দু’মাসের সময়সীমা দিয়ে মামলাটি সিঙ্গল বেঞ্চে ফেরত পাঠিয়েছে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ১৮ অক্টোবর। তার আগেই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, হাই কোর্টে একই বিষয়ে মামলা চলাকালীন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য হবে।
এ বারের মামলার আবেদনকারীও তাৎপর্যপূর্ণ। বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নিজেই এসএলপি-র আবেদনকারী। কালীঘাট শিবিরের তরফে তাঁকেই প্রথম বিরোধী দলনেতা করা হয়েছিল।
দলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সাংসদদের বিরুদ্ধে যে ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, একই যুক্তিতে এ বার বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজের আর্জি জানানো হয়েছে। তালিকায় ঋতব্রত ছাড়াও রয়েছেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান এবং রথীন ঘোষ।
তবে আপাতত ‘১০’-এই থামতে চাইছে কালীঘাট। কল্যাণের কথায়, বাকিদের জন্য এখনও ‘সময় এবং অক্সিজেন’ রাখা হচ্ছে। ভুল বুঝতে পেরে ফিরে আসতে চাইলে দরজা খোলা রয়েছে বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, আদালতের লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও খোলা রাখতে চাইছে কালীঘাট শিবির।‘‘কাকে কার সাংসদ পদ-বিধায়ক পদ খারিজ করে, একটু ধৈর্য ধরুন। জলের মতো সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’
অর্থাৎ প্রতীক নিয়ে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল, তা এখন পৌঁছেছে বিধায়ক পদ বাঁচানোর লড়াইয়ে। সামনে আদালতের শুনানি, বিধানসভার সিদ্ধান্ত এবং দলের ভবিষ্যৎ সমীকরণ তিন দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। শেষ পর্যন্ত কার ‘পদ’ থাকে, আর কার ‘দাবি’ টেকে, সেই উত্তরই এখন অপেক্ষার।





