কোচবিহার, ১৮ মে: কোচবিহারে ফের পুলিশের জালে ধরা পড়লেন শাসকদলের এক প্রভাবশালী নেতা। বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং নারীদের শ্লীলতাহানির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল কোচবিহার ১-বি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আব্দুল কাদের হক-কে। সোমবার সকালে গুড়িয়াহাটি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের একাধিক কর্মী-সমর্থকের পক্ষ থেকে আব্দুল কাদের হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগ, নির্বাচনী আবহে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বিরোধী শিবিরের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন মহিলা শ্লীলতাহানির অভিযোগও দায়ের করেন।
সেই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ সামনে আসার পর সোমবার সকালে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে কোচবিহার আদালতে তোলা হয়।
পুলিশের দাবি, ধৃত নেতার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, এই ঘটনাগুলির পিছনে আরও কারা জড়িত ছিল এবং সংগঠিতভাবে হামলার কোনও পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিনের মধ্যেই কোচবিহারে পরপর দুই তৃণমূল ব্লক সভাপতির গ্রেপ্তারের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনের কড়া অবস্থানের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জেলার রাজনীতিতেও।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করা হত। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত এই গ্রেপ্তারি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
এদিকে, আব্দুল কাদের হকের গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আদালত চত্বরে সকাল থেকেই কড়া পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীও রাখা হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে এখন নজর রয়েছে প্রশাসনেরও।





