শান্তিপুর, ৪ নভেম্বরঃ গন্তব্যে পৌঁছতে আর তর সইছিল না। মণ্ডপে অপেক্ষায় ভক্তরা। এ দিকে শিল্পীর কারখানায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে তৈরি মা। তবে এ কোনও সাধারণ যাত্রা নয়। গাড়ি কিংবা ট্রাকে নয়, রীতিমতো ট্রেনে চেপে ১১৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মুর্শিদাবাদের নিমতিতায় পৌঁছবেন শান্তিপুরের নিত্যকালী। মঙ্গলবার দুপুরে কালনা স্টেশন থেকে হাওড়া-মালদহ টাউন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসে চেপে শুরু হল সেই বিশেষ যাত্রা। আর শ্বেতশুভ্র কালীমূর্তিকে স্টেশন চত্বরে দেখে থমকে দাঁড়ালেন বহু যাত্রী। কেউ প্রণাম জানালেন, কেউ আবার মুঠোফোনে বন্দি করলেন সেই দৃশ্য।
নদিয়ার শান্তিপুরের শ্যামচাঁদপাড়া এলাকার শিল্পী শুভজিৎ দে-র হাতেই তৈরি এই নিত্যকালী। মুর্শিদাবাদের নিমতিতার বাসিন্দা অয়নাংশু বিশ্বাস অনলাইনে শিল্পীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মূর্তির বরাত দিয়েছিলেন। শিল্পীর কথায়, গত বছরও একই ঘরানার কালীমূর্তি তাঁর কাছ থেকে নিয়েছিলেন অয়নাংশু। এ বারও সেই পছন্দের পুনরাবৃত্তি। ফলে দ্বিতীয় বছরের জন্য শান্তিপুর থেকে নিমতিতার পথে পাড়ি দিলেন নিত্যকালী।
কিন্তু মুর্শিদাবাদে থাকতে শান্তিপুরের মূর্তির জন্য এত দূর ছুটে আসা কেন? শিল্পী শুভজিৎ দে-র ব্যাখ্যা, নিত্যকালী ঘরানার এই বিশেষ ধরনের প্রতিমা শান্তিপুরেই ভালো তৈরি হয়। সেই কারণেই দূরত্বের বাধা পেরিয়ে তাঁর কাছে বারবার আসছে বরাত। শিল্পীর দাবি, গত দু’বছর ধরেই এই ধরনের প্রতিমার জন্য নিমতিতা থেকে অর্ডার পাচ্ছেন তিনি।
রেলপথে শান্তিপুর থেকে নিমতিতার দূরত্ব প্রায় ১১৭ কিলোমিটার। সেই পথ পেরিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য মঙ্গলবার কালনা স্টেশন থেকে ট্রেনে তোলা হয় প্রতিমাটিকে। আর সেখানেই তৈরি হয় অন্য রকম এক দৃশ্য। শ্বেতশুভ্র মায়ের মূর্তি দেখে অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়েন। যাত্রার আগে প্রণাম জানাতেও ভোলেননি অনেকে।
উৎসবের মরসুমে প্রতিমা যাত্রার এমন অভিনব ছবি বুঝিয়ে দিল, পুজোর আনন্দের কোনও ভৌগোলিক সীমানা নেই। শিল্পীর হাতের সৃষ্টি আর ভক্তির টানে কখনও কখনও ট্রেনও হয়ে ওঠে মায়ের বাহন!





