কোচবিহার, ৪ নভেম্বরঃ ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। ঘড়ির কাঁটায় প্রায় চারটে। আচমকাই চান্দামারি এলাকায় পৌঁছে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং শিলিগুড়ির স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। লক্ষ্য, বেআইনি গাঁজা চাষের সন্ধান এবং তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ। বুধবার ভোররাতের এই যৌথ অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল কোচবিহারের চান্দামারি এলাকায়। অভিযানে একাধিক বাড়ি ও তার আশপাশে অবৈধ ভাবে গাঁজা চাষের সন্ধান মেলে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ঘটনায় মোট ছ’জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর ৪টে নাগাদ অভিযান শুরু হয়। ডিএসপি ট্রাফিক বিক্রম প্রসাদের নেতৃত্বে কোচবিহার জেলা পুলিশ, শিলিগুড়ি এসটিএফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে যৌথ দল চান্দামারির বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। অভিযানের সময় কয়েকটি বাড়ির আশপাশে বেআইনি ভাবে গাঁজা গাছ লাগানোর সন্ধান পান আধিকারিকেরা।
এর পরেই শুরু হয় গাছ উপড়ে ফেলার কাজ। উদ্ধার হওয়া গাঁজা গাছগুলি কেটে নষ্ট করার পাশাপাশি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছ’জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চাষের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
গোটা অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএসপি ট্রাফিক বিক্রম প্রসাদ। উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস, শিলিগুড়ি এসটিএফের ডিএসপি দেবদত্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকেরা।
তদন্তকারীদের নজরে এখন কয়েকটি বিষয়। কোথা থেকে এই গাঁজা চাষের পরিকল্পনা, এর পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না এবং উৎপাদিত মাদক কোথায় সরবরাহের কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু গাছ নষ্ট করেই অভিযান শেষ করতে চাইছে না পুলিশ। এর পিছনে থাকা নেটওয়ার্কের সন্ধানও চালানো হচ্ছে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অবৈধ গাঁজা চাষের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও ধারাবাহিক অভিযান চলবে। কোথাও এই ধরনের বেআইনি চাষের সন্ধান মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চান্দামারির এই অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখন একটাই প্রশ্ন মাদক চাষের শিকড় কতটা গভীরে?





