হুগলি, ৪ নভেম্বরঃ ‘‘আমি বিধায়ক হওয়ার আগে গুন্ডা ছিলাম!’’ হোয়াটসঅ্যাপ কলে এমনই মন্তব্য করার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কে জড়ালেন তারকেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। অভিযোগ, দলেরই এক কর্মীর সঙ্গে কথোপকথনের সময়ে তাঁকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি মারধরের হুমকিও দিয়েছেন বিধায়ক। যদিও ভাইরাল হওয়া অডিওর সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তিন ব্যক্তির কণ্ঠস্বর শোনা যায় এমন একটি অডিও। অভিযোগ, সেটি সন্তু পান এবং তাঁর দলের দুই কর্মীর মধ্যে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন। সেখানে বিধায়ককে একাধিক বার অশালীন ভাষা প্রয়োগ করতে শোনা যাচ্ছে বলে দাবি। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার কনভেনারের উদ্দেশেও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিজেপি সূত্রে খবর, ভান্ডারহাটির এক যুব বিজেপি কর্মী বিধায়কের ঘনিষ্ঠ এক দলীয় কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কথোপকথনে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে দাবি। ভাইরাল অডিওতে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অডিওর প্রেক্ষাপট এবং কথোপকথনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও স্পষ্ট নয়।
এই অডিওকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে আক্রমণে নেমেছে তৃণমূল। দলের হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার কনভেনার অসিত মজুমদারের কটাক্ষ, বিজেপির অন্দরে কর্মী ও বিধায়কদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছে। তাঁর অভিযোগ, উন্নয়নের কথা বললেও দলের নেতাদের আচরণে অন্য ছবি ফুটে উঠছে।
অন্যদিকে, অডিওতে থাকা এক যুবক নিজেকে বিজেপি কর্মী বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলেও অডিও কী ভাবে এবং কারা ছড়ালেন, তা তাঁর জানা নেই। কাউকে সেটি ভাইরাল করার অনুমতি দেননি বলেও দাবি করেছেন তিনি। বরং পরিচিতদের অডিওটি মুছে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে ভাইরাল অডিও ঘিরে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। তবে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে অডিওটির সত্যতা এবং সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই হওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।





