নদিয়া, ৮ মার্চঃ বিয়ের আনন্দের আবহ মুহূর্তেই বদলে গেল গভীর শোকে। পছন্দের পাত্রের সঙ্গে বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল, সোমবার ছিল চারহাত এক হওয়ার দিন। কিন্তু তার আগের দিনই রবিবার ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। নিজের ঘর থেকেই উদ্ধার হল ১৮ বছরের তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুর এলাকার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে। মৃতার নাম শীলা বিশ্বাস।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এলাকারই এক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল শীলার। দুই পরিবারের তরফেই সেই সম্পর্কে কোনও আপত্তি ছিল না। বরং দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। বিয়েকে ঘিরে উৎসাহও ছিল যথেষ্ট। কেনাকাটা থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রস্তুতিও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি বাড়িতে প্যান্ডেল তৈরির কাজও সম্পন্ন হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শীলা তাঁর ঠাকুমার সঙ্গে একই ঘরে থাকতেন। শনিবার রাতেও ঠাকুমার সঙ্গেই ঘুমিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, সেদিন তাঁর আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি।
রবিবার সকালে কিছু সময়ের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন ঠাকুমা। সেই সময় ঘরে একাই ছিলেন শীলা। কিছুক্ষণ পর তিনি ফিরে এসে ঘরে ঢুকতেই চমকে ওঠেন। ঘরের মধ্যেই গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায় তরুণীকে। তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন পরিবারের অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ-কে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি হবু বর ও তাঁর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা।
শীলার বাবা ও দাদা জানিয়েছেন, পরিবারে কোনও অশান্তি ছিল না এবং তাঁর ইচ্ছাতেই বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ঘটনার পর থেকে শোকস্তব্ধ পরিবার ও হতবাক হয়ে পড়েছেন প্রতিবেশীরাও। এখন প্রশ্ন একটাই বিয়ের আগের দিন হঠাৎ কেন এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিল তরুণী ? তদন্তে সেই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।





