কলকাতা, ১৩ ডিসেম্বর: লিওনেল মেসিকে এক ঝলক দেখার স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী হাজির হয়েছিলেন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হল না অধিকাংশ দর্শকেরই। মেসিকে দেখতে না পেয়ে মুহূর্তের মধ্যেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা স্টেডিয়াম। মাঠের মধ্যেই শুরু হয় ভাঙচুর ও তাণ্ডব। কাঁচের বোতল, চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় চারদিকে। বাংলার ফুটবল ইতিহাসে এই দিন নিঃসন্দেহে এক লজ্জাজনক অধ্যায় হয়ে রইল।
শনিবার নির্ধারিত সময়েই যুবভারতী স্টেডিয়ামে পৌঁছন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসি। তাঁর সঙ্গে মাঠে ঢোকেন লুইস সুয়ারেজ এবং রডরিগো ডি’পল। মাঠে ঢোকার সময় মেসি হাসিমুখে দর্শকদের দিকে হাত নাড়লেও আয়োজক ও অন্যান্য অতিথিদের ভিড়ে কার্যত ঢেকে যান তিনি। অভিযোগ, গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকদের বড় অংশই মেসির সেই উপস্থিতি ঠিকমতো দেখতে পাননি। সেই হতাশা থেকেই ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান মেসি। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তাঁর স্টেডিয়ামে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।
এই ঘটনার পর এক্স হ্যান্ডেলে দীর্ঘ পোস্ট করে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, “সল্টলেক স্টেডিয়ামে আজ যে অব্যবস্থা দেখা গেল, তাতে আমি স্তম্ভিত ও মর্মাহত। আমিও হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমীর মতো মেসিকে দেখতে যাচ্ছিলাম। এই দুঃখজনক ঘটনার জন্য আমি লিওনেল মেসি এবং সমস্ত দর্শক ও ভক্তদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।” পাশাপাশি আয়োজকদের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
গোটা ঘটনার তদন্তের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই কমিটিতে মুখ্যসচিব ও অতিরিক্ত মুখ্যসচিবরা থাকবেন। কীভাবে এমন অব্যবস্থা হল, দায়িত্ব কার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সব দিক খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।





