বীরভূম, ৩০ জুলাইঃ এক বছর ধরে বাড়িতে পড়েছিল তালাবন্ধ ট্রাঙ্ক। বলা হয়েছিল, ভিতরে রয়েছে জরুরি কাগজপত্র। সেই ট্রাঙ্ক খুলতেই বেরোল সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ ও ১৫ কেজি সোনা। আর সেই মুহূর্তেই ওলটপালট হয়ে গেল মিনার মণ্ডলের জীবন। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এবার স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করলেন তাঁর স্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ওই টাকা আমাদের নয়। আমরা জানতামই না ট্রাঙ্কের ভিতরে কী আছে।’’
বুধবার মহম্মদবাজারে মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ ও সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। রাতভর টাকা গোনার পর বৃহস্পতিবার সকালে মিনারকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সমস্ত নগদ ও সোনা। সিল করে দেওয়া হয়েছে তাঁর বাড়িও। তবে পরিবারের দাবি, এই বিপুল সম্পদের সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই।
মিনারের স্ত্রীর দাবি, প্রায় এক বছর আগে অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল তাঁদের বাড়িতে কয়েকটি ট্রাঙ্ক রেখে যান। তিনি নাকি জানিয়েছিলেন, ট্রাঙ্কে গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে। তালার চাবিও ছিল টুলুর কাছেই। ফলে পরিবারের কেউ কখনও ট্রাঙ্ক খুলে দেখেননি। পুলিশের তল্লাশির দিনই প্রথম জানতে পারেন ভিতরে কোটি কোটি টাকা ও সোনা রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের সংসার চলে স্বামীর সামান্য পেনশনেই। এত টাকা থাকার প্রশ্নই ওঠে না।’’
এই দাবির জেরেই ফের তদন্তের কেন্দ্রে উঠে এসেছে টুলু মণ্ডলের নাম। বীরভূমে বেআইনি পাথর ও বালির ব্যবসার অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত তিনি। অভিযোগ, নকল ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট (ডিসিআর) ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চলত তাঁর ব্যবসায়। সেই অর্থের একটি অংশ তৎকালীন শাসকদলের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছত বলেও বিরোধীদের অভিযোগ ছিল।
এর আগেও একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছে টুলুর নাম। বিধানসভা ভোটের আগে নিউটাউনে একটি গাড়ি থেকে পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছিল। ২০২২ সালে খুন-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তারও করেছিল মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। আবার প্রায় দেড়শো কোটি টাকা ব্যয়ে মেয়ের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও রাজ্য রাজনীতিতে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এখন তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মিনারের স্ত্রীর দাবি কি সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য? নাকি কোটি কোটি টাকা ও সোনার প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতেই এই নতুন বয়ান? সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করছে পুলিশ।





