কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বরঃ জনস্বার্থ মামলার নামে যা খুশি নিয়ে আদালতে ছুটে আসা যাবে না। যথাযথ তথ্য, নথি বা প্রমাণ ছাড়া একের পর এক PIL দায়েরের প্রবণতায় এ বার সরাসরি বিরক্তি প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। ভিত্তিহীন বা তথ্যহীন জনস্বার্থ মামলা দায়ের হলে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে বুধবার এমনই কড়া বার্তা দিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের বেঞ্চ এদিন শুনানির শুরুতেই পর পর কয়েকটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, জনস্বার্থ মামলা দায়েরের নির্দিষ্ট নিয়ম এবং আইনি কাঠামো রয়েছে। কোনও তুচ্ছ বিষয় বা পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তাকে ‘জনস্বার্থ’ বলে আদালতের সামনে হাজির করা যায় না।
বেঞ্চের মতে, এই ধরনের মামলায় শুধু আদালতের মূল্যবান সময়ই নষ্ট হয় না, তার প্রভাব পড়ে প্রকৃত জনস্বার্থের মামলাতেও। অপ্রয়োজনীয় মামলার ভিড়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এ দিন মামলাকারীদের পাশাপাশি আইনজীবীদেরও সতর্ক করেছে আদালত। প্রধান বিচারপতি জানান, তথ্যহীন বা খামখেয়ালি জনস্বার্থ মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করতে প্রয়োজনে জরিমানা করা হবে। সেই জরিমানার অর্থ বার লাইব্রেরিতে দেওয়া এবং নতুন আইনি বই কেনার কাজে ব্যবহার করার প্রস্তাবও দেন তিনি।
আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, যদি এই ধরনের মামলা আদালতে নিয়ে আসা হয়, তবে তার আর্থিক দায়ও নিতে হবে। জরিমানার টাকা দিয়ে বার লাইব্রেরির জন্য প্রয়োজনীয় বই কেনা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুনানির এক পর্যায়ে এক আইনজীবীকে ব্যক্তিগত পরামর্শও দেন প্রধান বিচারপতি। অপ্রয়োজনীয় মামলার পিছনে সময় না দিয়ে নিজের লক্ষ্য এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার কথা বলেন তিনি।
হাই কোর্টের এই বার্তায় ফের সামনে এল জনস্বার্থ মামলার মূল উদ্দেশ্যের প্রশ্ন। সাধারণ মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়ার পথ যাতে অপ্রয়োজনীয় মামলা ও অস্পষ্ট দাবির ভিড়ে আড়াল না হয়ে যায়, সে বিষয়েই কড়া নজর দিতে চাইছে আদালত। এখন দেখার, এই সতর্কবার্তার পর PIL দায়েরের ক্ষেত্রে কতটা সতর্কতা আসে।





