কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বরঃ এসআইআর নিয়ে বিতর্কের আঁচ এবার আরও তীব্র। নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে ভোট করাতে হবে। শুধু তাই নয়, জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারির দাবিও তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতার অভিযোগ, বাংলায় ভোট ‘‘লুট’’ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ভোট ফিরিয়ে দিন। বাংলার ভোট লুট করা হয়েছে। জনজাগরণ হওয়া উচিত।’’ তাঁর আরও দাবি, যে সমস্ত রাজ্যে এসআইআর-এর পর নির্বাচন হয়েছে, সেখানেও পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘‘মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। আপনাকে ইমপিচমেন্ট নয়, গ্রেপ্তার করতে হবে।’’ একই সঙ্গে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গ্রেপ্তার না হলে যুব, তরুণ এবং মহিলারা আন্দোলনে শামিল হবেন।
এই বক্তব্যের পিছনে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে কথিত মতপার্থক্য নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদন। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। অভিযোগগুলির মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন, ভোটার বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী তথ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ও রয়েছে।
তবে এই দাবি নিয়ে পাল্টা অবস্থান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, সদস্যদের মধ্যে আলোচনার সময় পৃথক মত বা পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে। এসআইআর-সহ কমিশনের সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল বলেও জানানো হয়েছে।
এ দিন মমতা ফের অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। বিজেপি অবশ্য তৃণমূলের অভিযোগ নস্যাৎ করে জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরাজয়ের দায় অন্যের উপর চাপানো হচ্ছে।
এসআইআর, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যখন নতুন মাত্রা পেয়েছে, তখন মমতার এই দাবি সেই উত্তাপ আরও বাড়াল। এখন নজর কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এই বিতর্কের আইনি পরিণতির দিকে।





