শীতলকুচি, ২০ সেপ্টেম্বরঃ নির্বাচনের পর থেকেই তালাবন্ধ। দিনের পর দিন পড়েছিল নিস্তব্ধ। রাতের অন্ধকারে সেই বন্ধ তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকেই আচমকা ভেসে এল বিকট শব্দ! সঙ্গে ধোঁয়া। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়াল শীতলকুচির লালবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়াবাজার এলাকায়। বন্ধ পার্টি অফিসের ভিতরে কী ভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল, তা নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে রহস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে আচমকাই ওই পার্টি অফিসের ভিতর থেকে বিকট শব্দ শুনতে পান এলাকার বাসিন্দারা। আচমকা শব্দে আতঙ্কিত হয়ে অনেকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয়দের দাবি, তখন পার্টি অফিসের দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় বাসিন্দারাও। বন্ধ থাকা একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের ভিতরে কী ভাবে এমন শব্দ হল, তা নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা। ঘটনাটি নিছক কোনও দুর্ঘটনা, না কি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে উঠতে থাকে সেই প্রশ্নও।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শীতলকুচি থানার পুলিশ। বিস্ফোরণের ধরন কী, কী থেকে শব্দ হয়েছে এবং কী ভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় বিজেপির মণ্ডল সহ-সভাপতি শাইদার রহমান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তবে ঠিক কীসের শব্দ হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরাও নিশ্চিত নন বলে জানান তিনি।
অন্য দিকে, বিজেপির ৬ নম্বর মণ্ডল সভাপতি পুলিন বর্মনের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা তাঁদের জানা নেই। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের কেউ নিজেরাই এমন ঘটনা ঘটিয়ে বিজেপিকে দায়ী করার চেষ্টা করেছে কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
তবে বিজেপি নেতার এই অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি। ফলে তদন্তের আগে ঘটনাটির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ।
নির্বাচনের পর থেকেই বন্ধ থাকা পার্টি অফিসে কেন এবং কী ভাবে বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটল এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তের দিকে তাকিয়ে নয়াবাজারের বাসিন্দারা।





