খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৮ জানুয়ারিঃ এসআইআর(স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন)প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের ‘হেনস্তা’র অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তারকা সাংসদ দেব, রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম এবং রাজ্যের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের পর এবার এসআইআর শুনানির নোটিস পেলেন মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার ও মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। আগামী সপ্তাহে নিজ নিজ বুথে নথিপত্র নিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁদের।
মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার বর্তমানে রায়দিঘি বিধানসভার ৬২ নম্বর সৌদিয়াল এফপি স্কুল বুথের ভোটার। আগামী ২৮ জানুয়ারি সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটের মধ্যে তাঁকে মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলে শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাঁর ও তাঁর বাবার পদবিতে অমিল থাকার কারণ দেখিয়ে এই নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সাংসদের অভিযোগ, বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে শুনানিতে ডেকে বিজেপি হয়রানির পরিকল্পনা করেছে। তিনি শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার আবেদন জানান।
বাপি হালদারের আরও অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মানুষদের হেনস্তা করার চক্রান্ত করছে। তিনি নিজে তফসিল সম্প্রদায়ের মানুষ বলেই অযৌক্তিকভাবে তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসকেও এসআইআর শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান পুরসভার সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিস দেন। আগামী ২৪ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটেয় শুনানিতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। নোটিস পেয়ে ক্ষুব্ধ বায়রন বিশ্বাস বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এই জেলার বাসিন্দা। তবুও আমাকে এসআইআরের নামে তলব করা হয়েছে।”
গোটা বিষয়টিকে বিজেপির চক্রান্ত বলে দাবি করে বায়রন বলেন, “এসআইআর শুরুর আগেই বিজেপি দেড় কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলেছিল। সেই দাবিকে মান্যতা দিতেই এখন বৈধ ভোটারদের নাম ছাঁটাইয়ের চেষ্টা চলছে। একজন বিধায়কের সঙ্গে যদি এমন আচরণ হয়, সাধারণ মানুষের অবস্থা সহজেই বোঝা যায়।” এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে যে উত্তাপ আরও বাড়ছে, তা স্পষ্ট।





