দিনহাটা, ১ আগস্টঃ ৩১ জুলাই ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত ছুঁতেই আবারও উঠল জাতীয় পতাকা। বাজল জাতীয় সঙ্গীত, জ্বলে উঠল মশাল। এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের আবেগ আজও অমলিন দিনহাটা মহকুমার সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের কাছে। তাই ক্যালেন্ডারের ১৫ অগস্টের পাশাপাশি তাঁদের কাছে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যরাতও স্বাধীনতার আর এক নাম।
২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে। বহু প্রজন্মের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ভারতীয় নাগরিকত্ব পান হাজার হাজার ছিটবাসী। রাষ্ট্রহীন জীবনের অবসান ঘটিয়ে সেই রাতেই প্রথমবার ভারতীয় তেরঙ্গার নীচে দাঁড়ানোর স্মৃতি আজও তাঁদের কাছে স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় প্রতীক।
সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করেই শুক্রবার মধ্যরাতে দিনহাটা মহকুমার মশালডাঙ্গা, পোয়াতুরকুঠি-সহ জেলার বিভিন্ন সাবেক ছিটমহল এলাকায় পালিত হল স্বাধীনতা দিবস। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি হয় দেশাত্মবোধক গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মোমবাতি ও মশাল মিছিল। প্রবীণদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনেকেই নতুন প্রজন্মকে ২০১৫ সালের সেই ঐতিহাসিক রাতের কথা তুলে ধরেন।
আয়োজকদের বক্তব্য, এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; বরং আত্মপরিচয় ফিরে পাওয়ার দিনকে স্মরণ করার অঙ্গীকার। তাঁদের কথায়, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার যে রাতে মিলেছিল, সেই রাতকে কখনও ভোলা সম্ভব নয়। তাই প্রতি বছর ৩১ জুলাই মধ্যরাত এলেই প্রাক্তন ছিটমহল এলাকায় আবারও ফিরে আসে স্বাধীনতার সেই ঐতিহাসিক ক্ষণ।





