নয়াদিল্লি, ২৮ ডিসেম্বরঃ উত্তর ও পশ্চিম ভারতের পরিবেশগত ভারসাম্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ আরাবল্লী পর্বতমালাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এই অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিতর্কের আবহে এবার স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করল সুপ্রিম কোর্ট। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে।
সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, আরাবল্লী পাহাড়ের আশপাশে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০০মিটারের কম উচ্চতার পাহাড়গুলিকে আর আরাবল্লীর অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে না। ফলে সেগুলি সংরক্ষণের আওতার বাইরে চলে যাবে। পরিবেশবিদদের দাবি, আরাবল্লীর প্রায় ৯০ শতাংশ পাহাড়ই ১০০ মিটারের কম উচ্চতার। তাই এই রায় কার্যকর হলে প্রাচীন এই পর্বতশ্রেণি কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়বে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আরাবল্লীর নতুন এই ‘সংজ্ঞা’ তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক। সেই সংজ্ঞাতেই সিলমোহর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়। কেন্দ্রের মোদী সরকার এই রায়কে স্বাগত জানালেও পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শিল্পপতি ও কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষার জন্যই আরাবল্লীকে সংরক্ষণের বাইরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
হরিয়ানা, রাজস্থান ও গুজরাতের বাসিন্দাদের একাংশ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আরাবল্লী শুধু একটি পাহাড়শ্রেণি নয়, বরং পশ্চিম ভারতের ‘ফুসফুস’। এই পর্বতমালার উপর নির্ভর করে রয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জলসম্পদ ও জীববৈচিত্র। চম্বল, সবরমতী ও লুনি নদীর উৎস আরাবল্লীতেই। পাশাপাশি রাজস্থানের থর মরুভূমির বিস্তার রুখে দিয়েছে এই পাহাড়শ্রেণি। আরাবল্লী না থাকলে দিল্লি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা মরুকরণের কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, খনি ও রিয়েল এস্টেটের জন্য আরাবল্লীতে অবাধ খননের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর নামবে, দূষণ বাড়বে এবং আদিবাসী জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়বে।
তীব্র আন্দোলনের জেরে গত বুধবার কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক আরাবল্লী অঞ্চলে নতুন খননের ইজারা দেওয়ার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপে আরাবল্লীর ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়।





