মালদা, ১২ ডিসেম্বর: বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদা জেলায় দ্রুত প্রভাব বিস্তার করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এআইএমআইএম। ইতিমধ্যেই জেলায় ২০টিরও বেশি দলীয় কার্যালয় খুলেছে ওয়েসি-প্রতিষ্ঠিত এই দল। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই মালদা জুড়ে শুরু হচ্ছে মিমের ‘অধিকার যাত্রা’, আর জানুয়ারি মাসে জেলার একাধিক জায়গায় সভা করবেন আসাদউদ্দিন ওয়েসি। স্বাভাবিকভাবেই, এই প্রস্তুতি ঘিরে জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে।
মালদা জেলার ১২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে কমপক্ষে ১০টি আসনে প্রার্থী দিতে প্রস্তুত মিম। কয়েক দিন আগেই ওয়াকফ সংক্রান্ত দাবিতে জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করে তাঁরা নজর কাড়ে।
মিমের দাবি: “মানুষ আমাদের পাশে, জোট হলে জোট, না হলে একক লড়াই”। মিমের জেলা সভাপতি রেজাউল করিম জানান,“মানুষ আমাদের ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। বর্তমান শাসক দল মানুষকে ঠকিয়েছে, কংগ্রেসেরও কোনও অস্তিত্ব নেই। আইএসএফ সহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জোট হলে জোটবদ্ধভাবে, নইলে এককভাবেই লড়ব।” মালদার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত একটি বড় অংশ তাঁদের সঙ্গে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তৃণমূলের অভিযোগ, মিম মূলত বিজেপির দোসর, এবং বাংলায় তারা বিজেপিকেই সুবিধা করে দিতে নেমেছে। কংগ্রেসও একই সুরে বলছে, বিহারের মতো এখানেও মিম বিজেপির ‘এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে।
কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, “মালদায় মানুষ কংগ্রেসের সঙ্গেই রয়েছে, তৃণমূল নয়।”
বিজেপির দাবি, গোটা দেশে লড়াই করার মতো শক্তি বিজেপির রয়েছে, মিমের প্রয়োজন নেই। বরং মিমের উত্থানেই তৃণমূল আতঙ্কিত।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে ১২টির মধ্যে ৮টি আসন জিতেছিল তৃণমূল, ৪টিতে বিজেপি। মিম লড়েছিল শুধুমাত্র মালতিপুরে। লোকসভা ভোটে মালদার দুই কেন্দ্র মালদা উত্তর এবং মালদা দক্ষিণ উভয় জায়গায় কংগ্রেস ও বিজেপিরই আধিপত্য ছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদায় মিম কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে? রাজনীতির অঙ্ক বলছে, মিমের লড়াই হলে মালদার ভোট-সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন দেখা যেতেই পারে।





