খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক, ৭ ডিসেম্বরঃ ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর অযোধ্যার কাছে ধন্যিপুরে মসজিদ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয় পাঁচ একর জমি। রাম মন্দিরের জন্য বিতর্কিত জমি হস্তান্তর করা হয় ট্রাস্টের হাতে, আর মসজিদ নির্মাণের জন্য আলাদা জমি বরাদ্দ হয় এই এলাকায়। কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ধন্যিপুরের সেই পাঁচ একর জমি আজও খালি। কাঁটাতারের বেড়া ঘেরা জমির ধারে ঝোলানো একটি সাইনবোর্ডই শুধু জানান দেয় প্রকল্পের অস্তিত্ব। এখনও পর্যন্ত একটি ইঁটও গাঁথা হয়নি।
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পূর্তির দিনে ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের (IISF) প্রেসিডেন্ট জুফুর ফারুকি জানিয়েছেন, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের মধ্যেই মসজিদ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হতে পারে। তাঁর কথায়, “মসজিদের সংশোধিত লেআউট ডিসেম্বরের মধ্যেই অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ADA) কাছে জমা দেওয়া হবে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হয়ে যাবে।”
প্রসঙ্গত, এর আগেও ADA-র কাছে নকশা জমা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সম্প্রতি তা খারিজ করে দেওয়া হয়। গোটা প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে মসজিদের পাশাপাশি ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, কমিউনিটি কিচেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আরও কয়েকটি সামাজিক পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা। তবে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে পাঁচ একরের মধ্যে চার একরে নির্মাণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন জুফুর। এর ফলে প্রকল্পের অন্যান্য অংশের জন্য অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন পড়বে। ধন্যিপুর সাইটের আশপাশে পর্যাপ্ত খালি জমি না থাকায় জমি সংগ্রহই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় বাধা।
এছাড়াও রয়েছে আর্থিক সংকট। প্রায় ৬৫ কোটি টাকার প্রকল্পের বিপরীতে IISF-এর হাতে রয়েছে মাত্র ৩ কোটি টাকা। ফাউন্ডেশনের দাবি, হাতে ১০–১৫ কোটি টাকা এলেই প্রাথমিক নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব। কিন্তু তার জন্য জরুরি FCRA-এর ছাড়পত্র, যাতে বিদেশ থেকে বড় অঙ্কের অনুদান নেওয়া যায়।
জুফুর ফারুকির কথায়, “এত বড় প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুদান সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। বড় দাতাদের সাহায্য প্রয়োজন।”
সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ছয় বছর কেটে গেলেও মসজিদ নির্মাণ শুরুর বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কোনও তারিখ বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
নকশা অনুমোদন, জমি সমস্যা ও আর্থিক জট কাটলেই কেবল শুরু হতে পারে বহু প্রতীক্ষিত ধন্যিপুর মসজিদ নির্মাণের কাজ।





