খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৯ জানুয়ারিঃ শুনানির আগেই কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে চরম বিশৃঙ্খলার জেরে শুক্রবার আইপ্যাক সংক্রান্ত জোড়া মামলার শুনানি হল না। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মামলাগুলির শুনানি আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর্জি জানিয়েছিল সিবিআই তদন্ত, নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস ফেরত, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ তার কোনওটিরই নিষ্পত্তি হল না।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিস থেকে যে ‘সবুজ ফাইল’ ও একগুচ্ছ নথি বের করে আনা হয়েছিল, সেগুলি আরও কিছুদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের কাছেই থাকার সুযোগ তৈরি হল। ইডির দাবি অনুযায়ী, ওই নথির মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীতালিকা, ভোটকৌশল ও সাংগঠনিক তথ্য রয়েছে।
হাইকোর্টে দাখিল করা পিটিশনে ইডি বিশেষভাবে নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস ফেরতের উপর জোর দেয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন ঘটনাস্থলে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গে থাকা রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা জোর করে ইডির হেফাজতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিভাইস ছিনিয়ে নেন। সেই নথি অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি, যতক্ষণ না তা ইডির হাতে আসছে, ততক্ষণ কোনও তথ্য বিকৃতি বা নথি নষ্ট না করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআই তদন্তের দাবিও তোলে ইডি। তাদের আর্জি ছিল, দ্রুত সিবিআই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হোক। বিশেষ করে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা কেন ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়। ইডির বক্তব্য, যাবতীয় নিয়ম মেনেই তল্লাশি অভিযান চলছিল।
এছাড়াও, সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়। ভবিষ্যতে ইডির তদন্তে রাজ্য সরকার যেন কোনওভাবে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, আইপ্যাক কাণ্ডে ইডি ও তৃণমূল কংগ্রেস উভয় পক্ষই মামলা ও পালটা মামলা দায়ের করেছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে দুটি মামলার একসঙ্গে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও, আইনজীবীদের অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এখন সব নজর ১৪ জানুয়ারির শুনানির দিকে।





