আবদুল হাই, বাঁকুড়াঃ স্কুলের ক্লাসরুমের ভিতর থেকে এক প্রধান শিক্ষক তথা বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-এর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ার রানীবাঁধ বিধানসভার রাজাকাটা এলাকায়। মৃতের নাম হারাধন মণ্ডল (৫৩)। তিনি রাজাকাটা মাঝপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং একই সঙ্গে ২০৬ নম্বর বুথের বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল প্রায় দশটা নাগাদ ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানির নথিপত্র সংগ্রহের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন হারাধন মণ্ডল। দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। একসময় তাঁরা বিদ্যালয়ে গিয়ে একটি ক্লাসরুমে ঢুকতেই সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর নিথর দেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে রানীবাঁধ থানায় খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ পাঠানো হয় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। ঘটনাস্থল ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই নোটে বিএলও সংক্রান্ত কাজের অতিরিক্ত মানসিক চাপের কথা উল্লেখ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, এসআইআর কাজের চাপের কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন হারাধন মণ্ডল। বাড়িতেও তিনি কাজের চাপ ও দায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। শিক্ষকতার পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে মানসিক চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছিল বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা হারাধন মণ্ডলের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, শিক্ষকদের উপর প্রশাসনিক কাজের অতিরিক্ত চাপ কমানো জরুরি।
রানীবাঁধ থানার পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিক্ষক সমাজ ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কাজের চাপ নিয়ে যথেষ্ট ভাবনা হচ্ছে কি না।





