কলকাতা, ১৯ ডিসেম্বরঃ ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল ও ত্রুটিমুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্বে ইলেক্টোরাল রোল মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কমিশন। শুক্রবার এই মর্মে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-কে লিখিত নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ৩২৪(৬)অনুচ্ছেদ এবং ‘ম্যানুয়াল অন ইলেক্টোরাল রোলস’ (মার্চ ২০২৩)-এর বিধি মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের সম্পূর্ণ ক্ষমতা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের হাতেই ন্যস্ত করা হয়েছে। কমিশনের মতে, এই ব্যবস্থায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা আরও জোরদার হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগেই সিইও দফতরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে চিঠি পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে এই প্রসঙ্গে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী কবে আসবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, “মাইক্রো রোল অবজার্ভার নিয়োগের বিষয়ে আজ অর্ডার হয়েছে।”
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ ‘বি’ বা তার ঊর্ধ্বতন স্তরের কর্মীদের মধ্য থেকে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে হবে। কেন্দ্রীয় PSU, জাতীয়কৃত ব্যাঙ্কের কর্মীরাও এই তালিকায় থাকবেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার শুনানি পর্বে কেন্দ্রীয় কর্মীদের নিয়ে মাইক্রো রোল অবজার্ভার নিয়োগের দাবি জানিয়েছিলেন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে তাঁর সেই দাবি কার্যত মেনে নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মাইক্রো অবজার্ভারদের দায়িত্ব হবে ভোটার তালিকা প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপে নজরদারি করা। বিএলও-দের ডিজিটাল এনুমারেশন ফর্ম যাচাই, জন্ম ও মৃত্যুর নথির সঙ্গে ভোটার তালিকার মিল পরীক্ষা, দাবি ও আপত্তির ক্ষেত্রে জমা পড়া নথি খতিয়ে দেখা, শুনানি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং ত্রুটি বা অসঙ্গতি চিহ্নিত করা তাঁদের মূল কাজের মধ্যে থাকবে। পাশাপাশি, পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে তাঁরা নির্বাচনী অবজার্ভারদের সহায়তা করবেন। প্রয়োজনে সিইও বা বিশেষ নির্বাচনী অবজার্ভার তাঁদের অতিরিক্ত দায়িত্বও দিতে পারবেন।
জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা(ডিইও) মাইক্রো অবজার্ভারদের লজিস্টিক ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। কাজের সময় তাঁরা শুধুমাত্র ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজেই যুক্ত থাকবেন এবং এই সময়কাল তাঁদের নিজ নিজ দফতরে ‘অন ডিউটি’ হিসেবেই গণ্য হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং এই সময়ের জন্য প্রত্যেককে এককালীন ৩০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে এটি যে একটি বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ, তা মানছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।





