কলকাতা, ৮ জানুয়ারিঃ বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৬টা নাগাদ ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের কর্ণধার ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার উপস্থিতির খবর ছড়াতেই অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, তাঁর সঙ্গে ঘটনাস্থলে হাজির হন কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মা। পরে সেখানে দেখা যায় রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকেও।
এছাড়াও বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু এবং বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারকেও প্রতীক জৈনের অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। অতীতে একাধিক তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রীর বাড়িতে ইডি বা সিবিআইয়ের অভিযান হয়েছে। কিন্তু সেই সব ক্ষেত্রে কখনওই এতজন ভিআইপিকে একসঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেখা যায়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জনমানসে প্রশ্ন উঠছে কে এই প্রতীক জৈন, এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কই বা কতটা গভীর?
লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, প্রতীক জৈনের শিক্ষাজীবন শুরু আইআইটি বম্বে থেকে। ২০০৮ সালে তিনি সেখানে ভর্তি হন এবং মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেটেরিয়াল সায়েন্সে বি.টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্পোরেট দুনিয়ায় তাঁর কর্মজীবন শুরু অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে ইন্টার্ন হিসেবে। পরে মুম্বইয়ে অ্যাক্সিস মিউচুয়াল ফান্ডে ইন্টার্নশিপের পর ২০১২ সালে ডেলয়েটে অ্যানালিস্ট পদে যোগ দেন। প্রায় এক বছর কাজ করার পর তিনি কর্পোরেট দুনিয়া ছেড়ে নতুন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন।
২০১৩ সালে প্রতীক জৈন ‘সিটিজেনস ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্ন্যান্স’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন। ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সেই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তাঁর রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে যাত্রা শুরু। প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আই-প্যাক গড়ে তোলেন। সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর হিসেবে আই-প্যাকের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন প্রতীক।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিহার, পঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যের নির্বাচনে ভোটকুশলী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেসের কৌশল নির্ধারণে আই-প্যাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই সূত্রেই তৃণমূলের সঙ্গে প্রতীক জৈনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে ইডির অভিযানে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল প্রতীক জৈনের নাম। আর তাঁর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ যে আরও বাড়াল, তা বলাই বাহুল্য।





