নয়াদিল্লি, ২৫ ডিসেম্বরঃ লাগাতার বিক্ষোভ ও পরিবেশবিদদের তীব্র চাপের মুখে আরাবল্লী পর্বতমালায় নতুন করে খনি ইজারা প্রদান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করল কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক। বুধবার এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি তরফে জানানো হয়েছে, আরাবল্লী অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা এবং সেখানে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত খনন কার্যকলাপ রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ফরেস্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন (আইসিএফআরই)-কে আরাবল্লী সংলগ্ন পরিবেশগত ও ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলি চিহ্নিত করতে হবে, যেখানে খনন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি সমগ্র আরাবল্লী অঞ্চলের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক ও বিস্তৃত খনি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্বও আইসিএফআরই-কে দেওয়া হয়েছে। ওই পরিকল্পনায় পরিবেশের উপর খননের প্রভাব, সংবেদনশীল এলাকা চিহ্নিতকরণ, পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসনের রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরবর্তী পর্যায়ে এই পরিকল্পনা জনসাধারণের মতামতের জন্য প্রকাশ করা হবে।
কেন্দ্রের নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যেসব খনন কার্যক্রম চলছে, সেগুলিকেও কঠোর পরিবেশগত শর্ত এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। রাজ্য সরকারগুলিকে চলমান খনন কাজের উপর কড়া নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে পরিবেশকর্মীদের তরফে অভিযোগ উঠেছিল যে কর্পোরেট স্বার্থে আরাবল্লীতে ব্যাপক খননের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে এই প্রাচীন পর্বতমালার ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হরিয়ানা, রাজস্থান, গুজরাট ও দিল্লি জুড়ে বিস্তৃত আরাবল্লীকে উত্তর-পশ্চিম ভারতের পরিবেশগত ফুসফুস বলা হয়। এটি মরুভূমির বিস্তার রোধ, নদীর উৎস রক্ষা ও ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।





