নয়াদিল্লি, ২৮ ডিসেম্বরঃ সিগারেটের দাম যে হঠাৎ এতটা বেড়ে যেতে পারে, তা বোধহয় অনেকেই কল্পনা করেননি। সংসদে পাশ হয়ে যাওয়া কেন্দ্রীয় আবগারি (সংশোধনী) বিল, ২০২৫ কার্যকর হলে একটিমাত্র সিগারেটের দাম বর্তমান ১৮ টাকা থেকে বেড়ে সরাসরি ৭২ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই বিলের মূল লক্ষ্য একটাই দেশে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো।
শুক্রবার রাজ্যসভায় বিলটি অনুমোদন পায়। পরে তা লোকসভায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী সংসদে এই বিল পেশ করেন। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে শুধু সিগারেট নয়, সিগার, হুক্কা তামাক, চিবোনো তামাক, জর্দা এবং সুগন্ধি তামাক সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের উপরই আবগারি শুল্ক ও সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় আবগারি আইন, ১৯৪৪ অনুযায়ী সিগারেটের উপর প্রতি হাজার শলাকার জন্য ২০০ থেকে ৭৩৫ টাকা পর্যন্ত শুল্ক ধার্য রয়েছে, যা সিগারেটের দৈর্ঘ্য ও ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে সেই শুল্ক বাড়িয়ে প্রতি হাজারে ২,৭০০ টাকা থেকে ১১,০০০ টাকা পর্যন্ত করা হবে। এর ফলে বাজারে একটি সিগারেটের দাম চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির খবরে সোশাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রেডিটে ধূমপায়ীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক তুঙ্গে। এক ধূমপায়ী লিখেছেন, “আমি নিজেও স্মোকার, তবু এই সিদ্ধান্ত ভালো লাগছে। এতে তরুণদের মধ্যে ধূমপান কমতে পারে।” আবার কেউ ব্যঙ্গের সুরে দিল্লির দূষণের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেছেন, “আমার কী, আমি তো দিল্লির বাতাসেই বেঁচে আছি।”
তবে উদ্বেগও রয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, দাম বাড়লে মানুষ সিগারেট ছেড়ে ভ্যাপ বা অন্যান্য বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারেন। কেউ কেউ আবার অবৈধ ও নকল সিগারেটের বাজার বাড়ার সম্ভাবনার কথাও তুলেছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।
সংশোধনী অনুযায়ী চিবোনো তামাকের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করা হচ্ছে। হুক্কা তামাকে তা ২৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত হচ্ছে। পাইপ বা সিগারেটের স্মোকিং মিশ্রণের ক্ষেত্রে করের হার ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, শুধু কর বাড়িয়ে ধূমপানের অভ্যাস কতটা কমবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সচেতনতা ও কঠোর নজরদারি ছাড়া লক্ষ্য পূরণ কঠিন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





