খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৪ জানুয়ারি: নবান্ন অভিযান সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে বড় ধাক্কা খেল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নের সামনে ধর্না বা অবস্থান কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া যাবে না স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল আদালত। শুক্রবার বিজেপির প্রস্তাবিত ধর্না কর্মসূচি নিয়ে করা আবেদনের প্রাথমিক শুনানিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এই মন্তব্য করেন।
শুনানিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ বলেন, নবান্ন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র। সেখানে ধর্না বা অবস্থান কর্মসূচি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এবং যান চলাচলেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণেই নবান্নের সামনে ধর্না করার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে আদালত স্পষ্ট করে দেয়।
তবে আদালত একেবারে ধর্না কর্মসূচির অনুমতি নাকচ করে দেয়নি। বিকল্প হিসেবে বিচারপতি প্রস্তাব দেন, নবান্ন বাসস্ট্যান্ড অথবা মন্দিরতলায় বিজেপি তাদের সমাবেশ বা ধর্না করতে পারে। আদালতের মতে, এই দুই জায়গায় কর্মসূচি হলে প্রশাসনিক কাজকর্মে সরাসরি বাধা পড়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে মামলাকারী পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বৃহস্পতিবার আদালতে জানাতে হবে নবান্ন বাসস্ট্যান্ড নাকি মন্দিরতলা, এই দু’টি জায়গার মধ্যে কোনটিতে তারা ধর্না করতে আগ্রহী। সেই সিদ্ধান্ত জানার পরেই আদালত চূড়ান্ত নির্দেশ দেবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশি, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি-সহ একাধিক ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার নবান্নের সামনে ধর্না কর্মসূচির ডাক দেয় বিজেপি। সেই উদ্দেশ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয় তারা।
শুনানির সময় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ আরও মন্তব্য করেন, “অন্য কোথাও আইন মানা হয়নি এই যুক্তিতে আমিও আইন মানব না, এটা হতে পারে না।” আদালতের এই পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, অতীতের কোনও উদাহরণ দেখিয়ে আইন ভাঙার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
সব মিলিয়ে, নবান্নের সামনে ধর্নার প্রশ্নে আদালত কড়া অবস্থান নিলেও বিকল্প স্থানে কর্মসূচির রাস্তা খোলা রাখল। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বিজেপির সিদ্ধান্ত ও আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।





