খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ ডিসেম্বরঃ ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার রাত থেকে উত্তাল। ঢাকাসহ খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলেও বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ভারতীয় কূটনৈতিক স্থাপনা এবং সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, শাহবাগের মূল কর্মসূচি স্থগিত থাকলেও বিকেল ৪টায় বাংলামোটর এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হবে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এই হামলা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। এই দুঃসময়ে সরকার আপনাদের পাশে আছে।”
হাদির হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ তৎপর। সন্ধান মিললেই আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রেহাই পাননি সংবাদমাধ্যমও। ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর অফিসে হামলা চালানো হয়, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। অনেক সাংবাদিক অফিসে আটকা পড়ে। পরে সেনা ও পুলিশ তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করে।
ঢাকার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ও শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যান্য বাড়িতে বুলডোজার ও ভাঙচুর চালানো হয়। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটে। খুলনায় এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ময়মনসিংহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের ভারতীয় উপদূতাবাসও বিক্ষোভকারীদের নিশানায় পড়েছে। উপদূতাবাসের সামনে ছাত্র-যুবকেরা অবস্থান নেয় এবং ঢিল-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীদের মুখে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারত-বিরোধী স্লোগান শোনা গেছে। শরিফ হাদির দেহ ঢাকায় ফেরানো হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফ্লাইটে কফিন পৌঁছবে এবং সেখানে তাঁর অন্ত্যেষ্টি অনুষ্ঠিত হবে।
দেশের হিংসার পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া বিএনপি জরুরি বৈঠক ডেকেছে হিংসা ও বিশৃঙ্খলার কারণে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে।
অতীত ইতিহাস ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই পরিস্থিতি দেশকে নতুন সংকটে ফেলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্যও কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।





