শিলিগুড়ি, ২৬ ডিসেম্বরঃ লাগাতার কর্মবিরতিতে রয়েছেন আশা কর্মীরা। বেতন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোসহ একাধিক দাবিতে ফের মহকুমা পরিষদ অভিযান করলেন তাঁরা। বুধবারের এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক আশা কর্মী অংশ নেন। হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মহকুমা পরিষদ চত্বর।
আন্দোলনরত আশা কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত স্বল্প পারিশ্রমিকে তাঁদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে। নিয়মিতভাবে সময়মতো ইনসেনটিভ ও প্রাপ্য ভাতা তাঁরা পান না বলেও অভিযোগ। পাশাপাশি সরকারি নানা স্বাস্থ্য প্রকল্পের কাজের চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে, অথচ তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পারিশ্রমিক বা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়নি। এই সমস্ত দাবিতে বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
আশা কর্মীরা জানান, তাঁরা শুধুমাত্র স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী নন, গ্রাম ও শহরতলির মানুষের সঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করেন। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি আজও মেলেনি। কর্মবিরতির জেরে বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নজরদারি, গর্ভবতী মায়েদের পরিচর্যা, প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ, টিকাকরণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং সচেতনতা কর্মসূচি কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের উপর। বহু গ্রাম ও শহরতলির এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন গর্ভবতী মহিলা, প্রসূতি মা ও শিশুদের পরিবার। অনেক ক্ষেত্রেই টিকাকরণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ নির্দিষ্ট সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আলোচনায় বসে সমাধান সূত্র বের না হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আশা কর্মীরা। তাঁরা জানান, প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন ও লাগাতার কর্মসূচির পথেও হাঁটবেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্বাস্থ্য পরিষেবার স্বাভাবিক ছন্দ ফেরাতে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের হবে কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ ও আশা কর্মীরা।





