কলকাতা, ১৯ ডিসেম্বরঃ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতরের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। সিইও এবং তাঁর দফতরের আধিকারিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন।
বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর পাঠানো ওই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় ২৪ ও ২৫ নভেম্বর কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ সিইও দফতরের সামনে আইনশৃঙ্খলার গুরুতর অবনতি ঘটে। অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কিছু বুথ লেভেল অফিসার ও কর্মী দফতরের সামনে ভিড় করে আধিকারিকদের ঘিরে ধরেন। এই ঘটনায় সিইও দফতরের কর্মীদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে বলে কমিশন উল্লেখ করেছে।
চিঠিতে কমিশন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার সংবেদনশীলতা এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে সিইও দফতরের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সিইও দফতর কলকাতার নেতাজি সুভাষ রোডের বামার লরি ভবনের ভাড়াবাড়িতে চলছে। নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা, পরিকাঠামোর ঘাটতি ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে খুব শীঘ্রই এই দফতরটি বিবাদী বাগ এলাকার স্ট্র্যান্ড রোডে শিপিং হাউসে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান ও নতুন দু’টি দফতরেই সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিএপিএফ মোতায়েনের আবেদন জানিয়েছে কমিশন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ রোল অবজার্ভার সি মুরুগান সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এসআইআর পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। স্থানীয় তৃণমূল সমর্থক মহিলাদের নেতৃত্বে তাঁকে ঘিরে ধরে প্রতিবাদ দেখানো হয়। ওই ঘটনার পর তিনি নিজে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে বাংলায় সমস্ত রোল অবজার্ভারদের নিরাপত্তা বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
সূত্রের খবর, সেই চিঠিতে সায় দিয়েই কমিশন এই পদক্ষেপ করেছে। ফলে আগামী দিনে এসআইআর-এর শুনানিতে জেলায় জেলায় যাওয়ার সময় রোল অবজার্ভারদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা থাকবেন। বর্তমানে রাজ্যে একজন বিশেষ রোল অবজার্ভার এবং ১২ জন রোল অবজার্ভার দায়িত্বে রয়েছেন। ফলতার ঘটনার পর তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কমিশন এমনটাই জানাচ্ছে প্রশাসনিক মহল।





