শিলিগুড়ি, ১১ ডিসেম্বরঃ চল্লিশ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর একটিয়াসাল এলাকায় মোবাইল টাওয়ার বসানোকে ঘিরে মঙ্গলবার গভীর রাতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রায় আড়াই বছর আগে নির্মিত একটি বাড়িতে গোপনে টাওয়ার বসানোর প্রস্তুতি চলছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই রাতে ভারী যন্ত্রপাতি ওই বাড়ির ভিতরে ঢোকানো হচ্ছিল, অথচ কাউকে কিছু জানানো হয়নি।
এলাকাবাসীদের সন্দেহ দানা বাঁধে যখন বাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসা করলে প্রথমে বলা হয় “সেপটিক ট্যাংকের কাজ হচ্ছে”। কিন্তু পরে একাধিক রাতে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আনার ঘটনা মোবাইলের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মঙ্গলবার রাতে, যখন টাওয়ারের প্রধান যন্ত্রপাতি এসে পৌঁছয়। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তখন বাড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং বাড়ির মালিকের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
খবর পেয়ে ভক্তিনগর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের অভিযোগ—পুরো প্রক্রিয়াই গোপনে চালানো হয়েছে এবং কাউন্সিলরকে ফোন করা হলে তিনি জানান, টাওয়ার বসানোর বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। ফলে এনওসি থাকা না থাকার প্রশ্ন উঠে পড়ে।
অন্যদিকে বাড়ির মালিকের দাবি একেবারেই আলাদা। তাঁর কথায়, সংশ্লিষ্ট টাওয়ার কোম্পানি তাঁকে জানিয়েছে যে এই প্রকল্পের জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুন্না প্রসাদ ইতিমধ্যেই এনওসি দিয়েছেন। দুই পক্ষের বক্তব্যে ফলে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি ঠিক কোনটি সত্য, তা নিয়ে এখন বিতর্ক চরমে।
বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত টাওয়ার বসানোর কাজ আপাতত বন্ধ থাকবে। পুলিশ সংশ্লিষ্ট টাওয়ার কোম্পানি, বাড়ির মালিক এবং এলাকাবাসীদের থানায় হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
ঘটনার শেষে কাউন্সিলরের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। রাতভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে একটিয়াসাল এলাকায় এবং টাওয়ার-বিতর্কই ছিল স্থানীয়দের একমাত্র আলোচ্য বিষয়।





