কলকাতা, ৮ জানুয়ারিঃ আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। সকাল ৬টা থেকে টানা প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। দুপুর প্রায় ৩টে নাগাদ লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান ইডি আধিকারিকরা। তার পরই প্রতীক জৈনের পরিবারের তরফে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।
প্রতীক জৈনের স্ত্রী শেক্সপিয়র সরণি থানায় ইডির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। জৈন পরিবারের দাবি, তল্লাশির সময় তাঁদের বাড়ি থেকে জরুরি নথি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করেছে ইডি আধিকারিকরা। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ইডি সূত্রে জানা যায়, দিল্লিতে নথিভুক্ত একটি পুরনো কয়লা পাচার মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার দিল্লি, কলকাতা-সহ দেশের মোট ১০টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। তার মধ্যেই ছিল আইপ্যাকের সল্টলেক সেক্টর ফাইভের কার্যালয় এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি। ভোর ৬টা থেকেই ইডি আধিকারিকরা প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন।
এই অভিযানের খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে কয়েকটি ফাইল হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। পরে ইডি সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে গেলে সেখানেও যান মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের আইটি সেল ও ভোটকৌশল সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিতেই এই অভিযান। তাঁর দাবি, দলের প্রার্থীতালিকা ও নির্বাচনী রণকৌশল চুরির ছক কষেছিল ইডি, এবং সেই কারণেই তিনি দলের নথি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, যতক্ষণ না ইডি প্রতীক জৈনের বাড়ি ছাড়বে এবং যতক্ষণ না প্রতীক নিজে সল্টলেকের অফিসে পৌঁছবেন, ততক্ষণ তিনিও আইপ্যাকের দপ্তরে অবস্থান করবেন।
দুপুর ৩টে নাগাদ ইডি আধিকারিকরা লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে প্রতীক জৈনও সেখান থেকে সল্টলেকের অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন। একই সঙ্গে আইপ্যাকের দপ্তরে তল্লাশি ও তথ্য হাতানোর অভিযোগে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় আলাদা করে একটি অভিযোগ দায়ের করে তৃণমূল কংগ্রেস।
ইডি অভিযান, মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি এবং চুরির অভিযোগে এফআইআর সব মিলিয়ে এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ এখন চরমে পৌঁছেছে।





