হাওড়া, ৫ সেপ্টেম্বরঃ শহিদ স্মরণকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা হাওড়ার শিবপুরে। পতাকা খোলাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও সিপিএমের অভিযোগ-পালটা অভিযোগে শুক্রবার রাত থেকে সরগরম শিবপুর বাজার এলাকা। দু’পক্ষই শিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। পরিস্থিতি যাতে নতুন করে উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত সিপিএমের দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। শনিবার বিকেলে ওই কার্যালয়ের সামনেই প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে সিপিএম।
শিবপুর রোডের শিবপুর বাজার এলাকায় রয়েছে সিপিএমের শহিদ বেদী। প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসের দিন সেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা সিপিএম নেতা জীবন মাইতির স্মরণে কর্মসূচি করে বাম দলটি। শুক্রবার রাতে সেই কর্মসূচির প্রস্তুতিতে দলীয় কর্মীরা এলাকায় গেলে শহিদ বেদীর পাশে বিজেপির পতাকা লাগানো দেখতে পান বলে দাবি সিপিএমের।
বিজেপির অভিযোগ, সিপিএমের কর্মীরাই ওই পতাকা খুলে দেন। এমনকি পতাকাটিকে পা দিয়ে মাড়ানোর অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি মোবাইল ক্যামেরায় রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হয় বলে বিজেপির দাবি। এর পরেই মিছিল করে ঘটনাস্থলে যান বিজেপি কর্মীরা। চলে স্লোগান। দুই পক্ষের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।
বিজেপির মধ্য হাওড়ার ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি শুভ্রদীপ দত্তের অভিযোগ, তাঁদের দলীয় পতাকার অবমাননা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ঘটনার প্রতিবাদে মিছিলের পাশাপাশি পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
অন্য দিকে, সিপিএমের হাওড়া জেলা কমিটির সদস্য তথা হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ ইমতিয়াজ আহমেদের পালটা অভিযোগ, বিজেপির বহু কর্মী তাঁদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শহিদ বেদীর পতাকা খুলে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি খোলা পতাকাগুলি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি সিপিএমের।
একই ঘটনাকে ঘিরে দুই রাজনৈতিক দলের দুই ধরনের বয়ান সামনে আসায় তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করা হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইনে পদক্ষেপের সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও পক্ষের অভিযোগকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখছে না পুলিশ। আপাতত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শনিবার বিকেলের প্রতিবাদ সভাকে ঘিরেও যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। শহিদ স্মরণ ঘিরে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক চাপানউতোর শেষ পর্যন্ত কোন পথে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর শিবপুরবাসীর।





