দিনহাটা, ৫ সেপ্টেম্বরঃ দিনহাটা ডিপোতে দাঁড়িয়ে থাকা উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার (NBSTC) বাসে আচমকা আগুন। রুটিন চেকআপ চলাকালীন মুহূর্তের মধ্যে বাসটি আগুনের গ্রাসে চলে যায়। ঘটনায় একাধিক জন আহত হয়েছেন বলে ডিপো সূত্রে খবর। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরও একটি বাসও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কী ভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
ডিপো সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিয়াগঞ্জ থেকে ফেরার পর বাসটি নির্ধারিত রুটিন চেকআপের জন্য ডিপোতে দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় মেকানিকরা আচমকা বাসের ভিতর থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীকে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলকর্মীরা। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে জল ও অন্যান্য পদ্ধতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলে। শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি। তবে তার আগেই আগুনের লেলিহান শিখা পাশের একটি বাসে পৌঁছে যায়। সেটিও আংশিক ভাবে ঝলসে যায় বলে জানা গিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে তাঁদের আঘাতের প্রকৃতি বা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
এদিকে, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে প্রাথমিক অনুসন্ধান। ডিপো কর্মীদের একাংশের অনুমান, বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। যদিও শুধুমাত্র প্রাথমিক অনুমানের ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যান্ত্রিক ত্রুটি, বৈদ্যুতিক সংযোগের সমস্যা কিংবা রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশও পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে দমকলের তদন্ত রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি ডিপোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং বাসটির রুটিন চেকআপের নথিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ড নিছক যান্ত্রিক ত্রুটির ফল, নাকি রক্ষণাবেক্ষণে কোনও গাফিলতি ছিল এই প্রশ্নই এখন সামনে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে দায় চাপানো যাচ্ছে না। তবে ডিপোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণকেন্দ্রে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠল এই ঘটনায়।





