আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

বিয়ে ‘আইনগত’ কি না, তা দিয়েই থামবে না ৪৯৮এ মামলা! হাই কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

Published on: September 5, 2026
---Advertisement---

কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বরঃ সম্পর্কের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেই কি বধূ নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা শুরুতেই খারিজ হয়ে যাবে? এই প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের বক্তব্য, ৪৯৮এ ধারায় নিষ্ঠুরতার অভিযোগ খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ‘ত্রুটিহীন’ বা আইনগত ভাবে বৈধ বিয়ে হয়েছিল কি না, তা দিয়েই গোটা ফৌজদারি প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়া যায় না। প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণে যদি বিয়ের মতো ঘরোয়া সম্পর্ক এবং নিষ্ঠুরতার অভিযোগের উপাদান থাকে, তা হলে মামলা চলতে পারে।

৪৯৮এ ধারার প্রয়োগ সংক্রান্ত একটি ফৌজদারি রিভিশন মামলায় এই পর্যবেক্ষণ করেছে বিচারপতি উদয়কুমারের আদালত। মামলাটি করেছিলেন এস কে আজহারউদ্দিন ওরফে আকাশ। তাঁর বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ যে চার্জশিট পেশ করেছে, তা খারিজের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি হাই কোর্ট।

মামলার বয়ান অনুযায়ী, কোয়েল বেগম ওরফে জয়া রায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতা, প্রতারণা-সহ একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগে ধর্মান্তরকরণের প্রসঙ্গও রয়েছে। জয়ার দাবি, বিবাহবিচ্ছেদের পর ২০১৯ সালে আকাশের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। অভিযোগ, আকাশ নিজেকে অবিবাহিত ও অনাথ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁকে বিয়ের মতো সম্পর্কে জড়ান। পরবর্তী সময়ে তাঁর উপর নির্যাতন এবং প্রতারণার অভিযোগ ওঠে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হওয়া ফৌজদারি প্রক্রিয়া বন্ধ করার আবেদন নিয়েই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আকাশ। তাঁর যুক্তি ছিল, সম্পর্কটির বৈধ বিবাহের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, মামলার প্রাথমিক স্তরে বিয়ের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে ফৌজদারি প্রক্রিয়া বন্ধ করা সমীচীন নয়। অভিযোগে যদি দাম্পত্যসদৃশ সম্পর্ক এবং নিষ্ঠুরতার উপাদান থাকে, তা হলে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এগোতে পারে।

আইনজীবী মহলের বক্তব্য, বিবাহিত মহিলাদের সুরক্ষার উদ্দেশ্যেই ১৯৮৩ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে ৪৯৮এ ধারা যুক্ত হয়েছিল। তবে একই সঙ্গে এই ধারার অপব্যবহার রুখতেও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশ রয়েছে। অভিযোগ দায়ের হলেই স্বামী বা তাঁর আত্মীয়দের স্বয়ংক্রিয় ভাবে গ্রেফতার করা যায় না। পুলিশকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন মেনে তদন্ত করতে হয়।

ফলে হাই কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের তাৎপর্য মূলত এই জায়গাতেই সম্পর্কের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণকে উপেক্ষা করে মামলা শুরুর পথ বন্ধ করা যাবে না। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনও সিদ্ধান্তও এই পর্যায়ে আদালত দেয়নি। নিম্ন আদালতে মামলা চলবে এবং তদন্ত ও পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়াতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment