নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন শিলিগুড়ি কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। নতুন পড়ুয়াদের সাহায্যের জন্য বসানো হেল্প ডেস্ককে কেন্দ্র করে এসএফআই এবং এবিভিপির সদস্যদের মধ্যে প্রথমে বচসা, পরে মারধরের অভিযোগ ওঠে। যদিও ঘটনার সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে এবিভিপি। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ তাদের কাছে জমা পড়েনি।
এসএফআইয়ের অভিযোগ, নতুন ভর্তি হওয়া এক ছাত্রকে কলেজের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাহায্য করার সময় এবিভিপির সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাদের এক কর্মীকে মারধর করা হয় বলে দাবি সংগঠনের। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছে তারা।
অন্যদিকে, এবিভিপির দাবি, এসএফআইয়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংগঠনের সম্পাদক সৌগত দাসের বক্তব্য, এক নতুন ছাত্রকে নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে সামান্য বাকবিতণ্ডা হয়। তবে কোনও মারধরের ঘটনা ঘটেনি। যে ছাত্র আহত হওয়ার দাবি করছেন, তিনি হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক চালানোর সময় দুর্ঘটনায় পড়ে আহত হয়েছেন। সেই ঘটনার সঙ্গে এবিভিপির কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি তাদের।
ঘটনা নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ আপাতত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। অধ্যক্ষ ড. সুজিত কুমার ঘোষ জানান, ছাত্র সংগঠনগুলির কেউই এখনও পর্যন্ত কলেজ প্রশাসনের কাছে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
ভর্তি মরসুমে কলেজ চত্বরে নতুন পড়ুয়াদের সহায়তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক ফের ছাত্র রাজনীতির আবহকে সামনে এনে দিয়েছে। যদিও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী, তা স্পষ্ট হতে প্রশাসনিক তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের দিকেই এখন নজর শিক্ষামহলের।





