মনিরুল হক, কোচবিহারঃ মঙ্গলবার কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘রণসংকল্প সভা’কে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়াল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতায়। এদিন সকালে কোচবিহারে পৌঁছেই মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেন তিনি। যে কোচবিহার থেকে ২০২৩ সালে দিনহাটা হয়ে ‘নবজোয়ার যাত্রা’র সূচনা করেছিলেন, সেই মাটিতেই ফের একবার নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেন অভিষেক।
সভামঞ্চে উঠে চমকপ্রদ দাবি করেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের খাতায় যাঁদের ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তাঁরা জীবিত। সেই দাবি প্রমাণ করতে একে একে মঞ্চে ডেকে নেন অশ্বিনী অধিকারী, কাজিমা খাতুন, মুর্শিদ আলম, আজিজর রহমান, তপন বর্মন-সহ মোট ১০ জনকে। কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন, “এরা সবাই জীবিত, অথচ ভোটার তালিকায় এদের নাম নেই।” এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই চেষ্টার বিরুদ্ধে কি প্রতিবাদ হওয়া উচিত নয়?
এর পাশাপাশি কোচবিহারকে ঘিরে বিজেপির পুরনো প্রতিশ্রুতির খতিয়ানও তুলে ধরেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী-সহ বিজেপি নেতারা নারায়ণী ব্যাটালিয়ন গঠন, প্যারা-মিলিটারি ট্রেনিং সেন্টার, মদনমোহন মন্দিরকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার মতো একাধিক আশ্বাস দিয়েছিলেন। ২০২১ সালে কোচবিহার রেলস্টেশনকে স্পোর্টস হাব করার ঘোষণা হলেও আজ সেই ফলকে শ্যাওলা পড়ে গিয়েছে বলে কটাক্ষ করেন তিনি। একইসঙ্গে ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রতিশ্রুতিও এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন।
হেলিকপ্টার পরিষেবা বন্ধের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে কোচবিহারের নাইন সিটার হেলিকপ্টার পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর নামে আসাম থেকে নোটিস পাঠিয়ে শুধু বাঙালিকে অপমান করা হয়নি, আটকে রাখা হয়েছে বাংলার প্রাপ্য টাকাও। অভিষেকের অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে কোচবিহারের সাড়ে তিন লক্ষ মানুষকে নতুন করে নোটিস ধরানো হয়েছে।
কর্মীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, যাঁরা কমিশনের নোটিস পেয়েছেন, তাঁদের সকলের নাম যেন ভোটার তালিকায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। দিল্লির বিষয় দল দেখবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। অভিষেক বলেন, “এটা শুধু তৃণমূল বনাম বিজেপি নয়, এটা বাংলার অধিকার বনাম বিজেপির লড়াই।” শেষ পর্যন্ত কর্মীদের লক্ষ্য বেঁধে দিয়ে তিনি বলেন, জেলার ন’টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে পারলে কোচবিহারের উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি নিজে নেবেন।





