খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৫ ডিসেম্বরঃ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ভেস্তে যাওয়ার ঘটনার পর একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ। আগেই এই ঘটনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবার স্টেডিয়াম ভাঙচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। সোমবার নাগেরবাজার এলাকা থেকে স্টেডিয়াম ভাঙচুরের অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে যুবভারতী স্টেডিয়ামে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাঙচুরে অভিযুক্ত আরও বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ফলে আগামী দিনে গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে মূলত সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত ভিডিও ও ছবি এবং সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। নির্ধারিত সময়েও মেসিকে ঠিকভাবে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ ওঠে দর্শকদের একাংশের। সেই ক্ষোভ থেকেই গ্যালারিতে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মাঝপথেই অনুষ্ঠান বন্ধ করে মাঠ ছাড়েন মেসি ও তাঁর সতীর্থরা। এরপর ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ গ্যালারিতে তাণ্ডব চালায়। ভাঙচুর করা হয় অসংখ্য চেয়ার। কার্পেট, ফুলের টব লুঠ করা হয় এবং গোলপোস্টের জাল ছিঁড়ে ফেলা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নাগেরবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া দু’জনের নাম শুভ্রপ্রতীম দে ও গৌরব বসু। পরে বাসুদেব দাস, সঞ্জয় দাস এবং অভিজিৎ দাস নামে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এদিকে, গতকালই আদালত শতদ্রু দত্তের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তাঁকে জেরা করছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পাশাপাশি, মেসির অনুষ্ঠানের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার কর্মীসহ আরও বহুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।





