কলকাতা, ৯ ডিসেম্বরঃ ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ গতিপথে নয়া মোড়। কয়েকদিন ধরেই দলের নির্দেশ ও অবস্থানের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে দলের অস্বস্তি বাড়াচ্ছিলেন তিনি। শনিবার পর্যন্ত নিজেই ঘোষণা করেছিলেন বিধায়ক পদ ছাড়বেন। কিন্তু পরে সুর বদলে হঠাৎই জানিয়ে দেন এখনই ইস্তফা নয়। তাঁর এই অবস্থান পালটানোর পরই দ্রুত নড়েচড়ে বসে তৃণমূল পরিষদীয় দল। সিদ্ধান্ত হয়, আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে বদলে দেওয়া হবে হুমায়ুনের আসন।
দলের একাংশের স্পষ্ট বক্তব্য, পার্টির অবস্থানের সঙ্গে যাঁদের আচরণ বা ভাষ্য মেলে না, তাঁদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে। ফলে পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রেজারি বেঞ্চের পাশের তাঁর ‘প্রিয়’ আসন থেকে সরিয়ে এবার তাঁকে বসতে হতে পারে বিজেপি পরিষদীয় দলের নিকটবর্তী সারিতে। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, এই আসন বদল আসলে স্পষ্ট বার্তা শৃঙ্খলা ভাঙলে কোনও ছাড় নয়।
২০১৪ সালে রেজিনগর থেকে কংগ্রেস ছাড়িয়ে তৃণমূলে যোগ দেন হুমায়ুন কবীর এবং দ্রুতই পান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। ২০১৫-র উপনির্বাচনে হারের পর তিনি মন্ত্রিত্ব হারালেও ২০২১ সালে ভরতপুর থেকে ফের বিধায়ক নির্বাচিত হন। অতীত দায়িত্ব ও মর্যাদা মাথায় রেখে তাঁকে বিধানসভায় সম্মানজনক আসনই দিয়েছিল পরিষদীয় দল। কিন্তু সাম্প্রতিক বক্তব্য ও তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার মতো মন্তব্যে দল ক্রমেই তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে।
এদিনও হুমায়ুন দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি নাকি ভরতপুর থেকে তৃণমূলকে “শূন্য” করে দেবেন। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, “কতবার সতর্ক করা হয়েছে তাঁকে। কিন্তু বক্তব্য বা আচরণে কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং হুঁশিয়ারির মাত্রাই বাড়ছে। ফলে দূরত্ব বজায় রাখাই উপযুক্ত বলে মনে করেছে দল।”
এদিকে, সাসপেন্ডেড আরেক বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও জেল থেকে মুক্তির পর অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। জানা যাচ্ছে, তাঁর জন্যও নির্ধারিত হয়েছে বিজেপি বেঞ্চের পাশের আসন। ফলে রাজনৈতিক মহলের জল্পনা আসন্ন অধিবেশনে বিধানসভায় ‘নতুন জুটি’ হিসেবে পাশাপাশি দেখা যেতে পারে পার্থ-হুমায়ুনকে।
যদিও বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফলে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। তবে উপস্থিত হলে দুই সাসপেন্ডেড বিধায়ককে নতুন আসনেই দেখা যাবে তা প্রায় নিশ্চিত। দলের অভ্যন্তরে কেউ কেউ এই আসন বদলকে কটাক্ষ করে বলছেন “নতুন জুটি তৈরির উপযুক্ত সময়।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রতীকী ও রাজনৈতিক দুইদিক থেকেই শাসকদলের কড়া বার্তা স্পষ্ট।





