কলকাতা, ২৮ অক্টোবরঃ পুজোর বিরতি কাটিয়ে বিধানসভার অধিবেশনে রাজনৈতিক উত্তাপ ফিরল দুই নতুন বিধায়কের শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে জয়ী হাসিরানি রথ এবং শাখারভ সরকারকে শপথবাক্য পাঠ করালেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী-সহ শাসক ও বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিরা। দুই বিধায়ককে অভিনন্দন জানান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁদের শপথের পর বিধানসভায় বিজেপির আসনসংখ্যা ২০৭ থেকে বেড়ে ২০৯ হল।
শপথগ্রহণের পরেই রাজনৈতিক বার্তার মঞ্চ হয়ে ওঠে বিধানসভা। রেজিনগরে বিজেপির জয়কে সামনে রেখে দলকে সংখ্যালঘু-বিরোধী বলে আক্রমণের পাল্টা জবাব দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রেজিনগরে অন্নপূর্ণা যোজনায় উপকৃত ৭০ হাজার মহিলার মধ্যে ৩৫ হাজারই সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য। তাঁর বক্তব্য, সরকার পরিচালনায় বিজেপি ধর্মের বদলে প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয়। সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত বুথেও দলের জয়কে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই তুলে ধরেন তিনি।
নন্দীগ্রামের আসন ছেড়ে আসা নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, আসন ছাড়ার সিদ্ধান্তে এলাকার অনেকের অভিমান হয়েছিল। তবে হাসিরানি রথের মাধ্যমে নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন তিনি। একই সঙ্গে নাম না করে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, বয়সের কারণে এবার বিশ্রাম নেওয়ার সময় হয়েছে।
বিধানসভায় চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় শুটার ও সুপারি কিলার-সহ সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। তবে হত্যার জন্য কথিত দুই কোটি টাকার সুপারি কোথা থেকে এসেছিল, তা জানার দাবি জানান তিনি। তদন্তের বাকি দিকগুলি নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর জারি থাকে।
অন্য দিকে, বিরোধী দলনেতার নথি চুরির অভিযোগের তদন্ত এবং চোরবাগান মণ্ডপ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে। নথি চুরির অভিযোগে এফআইআর হলে তদন্তভার সিআইডির হাতে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন শুভেন্দু। চোরবাগান কাণ্ডে আগামী তিন মাসের মধ্যে সিটের রিপোর্ট বিধানসভায় প্রকাশের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনায় জড়িত কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেও জানান তিনি।
দুই নতুন বিধায়কের শপথ দিয়ে শুরু হলেও দিনের রাজনৈতিক তাৎপর্য আটকে থাকল না আনুষ্ঠানিকতায়। সংখ্যালঘু ভোট থেকে নন্দীগ্রামের সমীকরণ, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত থেকে মণ্ডপ বিপর্যয় একাধিক ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও একবার স্পষ্ট হল।





