কলকাতা, ২৮ অক্টোবরঃ অর্ণবের প্রভাবে উপকূলীয় বাংলায় ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের জেরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রাথমিক অনুমান। গন্তব্যে পৌঁছতে অনেক যাত্রীকে ভরসা করতে হল পায়ে হাঁটা কিংবা টোটোর উপর।
কোথাও ঝোড়ো হাওয়া, কোথাও বৃষ্টি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আবহাওয়ার এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই দিঘা যাওয়ার পথে বিপাকে পড়লেন তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসের যাত্রীরা। দিঘা স্টেশনে ঢোকার প্রায় দেড় কিলোমিটার আগেই থমকে গেল ট্রেন। সকাল থেকে সৈকতনগরীতে যাওয়ার আনন্দযাত্রা আচমকাই পরিণত হল দুর্ভোগে। অভিযোগ, দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকে ট্রেনটি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত অনেক যাত্রীকে হেঁটে কিংবা টোটোয় চেপে গন্তব্যের দিকে রওনা দিতে হয়।
প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে হাওড়া থেকে দিঘার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১০টা নাগাদ দিঘায় পৌঁছনোর কথা ছিল ট্রেনটির। কিন্তু গন্তব্যের একেবারে কাছে এসে ছন্দপতন। দিঘা স্টেশন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়ে পড়ে ট্রেন। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যার জেরেই এই বিপত্তি। যদিও সমস্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মেলেনি।
দীর্ঘক্ষণ ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে অনেকেই বিকল্প পরিবহণের সন্ধান শুরু করেন। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ আবার টোটোয় চেপে দিঘার দিকে এগিয়ে যান। পুজোর পর সৈকতনগরীতে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সেই আবহে ট্রেন চলাচলে এই বিঘ্ন যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতিবেগে স্থলভাগে আছড়ে পড়েছে ঝড়টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে বাংলাতেও। বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
পুজোর ব্যস্ততা কাটিয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে দিঘা। উত্তাল সমুদ্রের রূপ দেখতে পর্যটকদের আনাগোনাও বাড়ছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আবহাওয়ার বদল এবং রেল পরিষেবায় বিঘ্ন দুইয়ের জেরে পর্যটকদের যাত্রাপথে তৈরি হল অনিশ্চয়তা। আপাতত প্রশ্ন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে কবে ফের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছবে দিঘাগামী ট্রেন?





