কলকাতা, ২৮ অক্টোবরঃ নন্দীগ্রাম ছেড়ে ভবানীপুরে জেতার পরেও রাজনৈতিক সংঘাতের আঁচ কমছে না। বরং বিধানসভায় দাঁড়িয়ে নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের নিশানা করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম আসন ছাড়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তাঁর পরামর্শ, বয়সের কথা মাথায় রেখে এ বার ভোটে না দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নেওয়াই ভাল। শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
বুধবার বিধানসভায় উপনির্বাচনে জয়ী দুই বিধায়ক হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল। স্পিকার রথীন্দ্র বসু তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। দুই নতুন বিধায়ককে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের নন্দীগ্রাম ছাড়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। সেখান থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দু’টি কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হন খুন হওয়া তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেছেন তিনি।
কেন নন্দীগ্রাম ছেড়েছিলেন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ভবানীপুরের আসন ছেড়ে দিলে তাঁর কাছে আগে দু’বার পরাজিত ব্যক্তি ফের ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতেন। সেই সুযোগ দিতে চাননি বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি। এর পরেই নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শুভেন্দুর মন্তব্য, “বয়স প্রায় ৭৫। এই বয়সে আর না দাঁড়ানোই ভাল। বিশ্রাম নেওয়ার কথা এখন।”
নন্দীগ্রামের আসন ছেড়ে আসা নিয়ে এলাকার একাংশের অভিমান হয়েছিল বলেও এর আগে জানিয়েছিলেন শুভেন্দু। হাসিরানি রথের মাধ্যমে নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
বিধানসভার আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণের মঞ্চে দুই নতুন বিধায়ককে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এ দিনের বক্তব্যে রাজনৈতিক বার্তাই স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের নির্বাচনী লড়াইয়ের রেশ যে এখনও রাজ্যের রাজনীতিতে সক্রিয়, শুভেন্দুর মন্তব্যে ফের তা সামনে এল।





