কলকাতা, ২৮ অক্টোবরঃ লাল জবা ফুলের মালা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, একের পর এক টাটকা জবা সুতোয় গেঁথে তৈরি হয়েছে পুজোর উপকরণ। কাছে গেলে বোঝা যায়, ফুলগুলি আসলে কাপড়ের। লাল ভেলভেটের কাপড় কেটে, যত্ন করে ফুলের আকার দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই মালা। কালীপুজোর আগে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ও কেতুগ্রামের কয়েকটি গ্রামের শিল্পীদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন তাঁরা।
কেতুগ্রামের শাখাই গ্রাম এবং কাটোয়ার পানুহাট, বনগ্রাম-সহ বিভিন্ন এলাকার বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম ফুল ও মালা তৈরির সঙ্গে যুক্ত। বাড়ির উঠোন কিংবা ঘরের এক কোণে বসেই চলে কাজ। পরিবারের মহিলারা অবসর সময়ে কাপড় কেটে ফুল তৈরি করেন। পরে সেই ফুল সুতোয় গেঁথে তৈরি হয় ৫১ ও ১০৮ জবার মালা। কালীপুজোয় দেবীর আরাধনায় এই মালার চাহিদা থাকায় উৎসবের আগে বাড়ে কাজের চাপ।
শাখাই গ্রামের গৃহবধূ হেনা রায় ও জবা বর্মণ জানান, প্রথমে লাল কাপড় কেটে ফুলের আকার দেওয়া হয়। তার পর একের পর এক ফুল সুতোয় গেঁথে মালা তৈরি করেন তাঁরা। বাড়ির কাজ সামলে এই শিল্পের মাধ্যমে উপার্জনের সুযোগ মেলায় সংসারে বাড়তি আয়ও হয়। কালীপুজোর আগে বরাত বাড়ায় তাঁদের মুখে হাসি ফুটেছে।
কাটোয়ার দুর্গাগ্রামের সুনীল দাসের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, “এ বার কালীপুজোর জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে বরাত এসেছে। আশা করছি, এ বার অন্তত দুটো পয়সা লাভের মুখ দেখতে পাব।”
এই শিল্পে শুধু লাল কাপড় নয়, ব্যবহার হয় পাট, জরি, রেশমের সুতো ও শিট পেপারও। কোথাও হাতে ফুল গেঁথে, কোথাও কাঠের যন্ত্রের সাহায্যে সুতো পাকিয়ে তৈরি হয় মালা। পরে সেগুলি পাইকারি দরে দশকর্মার দোকানে পৌঁছে যায়। শিল্পীদের হিসাব অনুযায়ী, এক ডজন কাপড়ের মালার দাম প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। দিনে ২৫ থেকে ৫০ ডজন পর্যন্ত মালা তৈরির ক্ষমতা রয়েছে কোনও কোনও শিল্পীর।
কাটোয়ার তৈরি মালা শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও পাঠানো হয়। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগের মধ্যে কাপড়ের মালার চাহিদা বাড়লে এই গ্রামীণ শিল্প আরও গতি পাবে বলে আশা করছেন শিল্পীরা। পরিবেশবান্ধব পুজোর উপকরণ তৈরির পাশাপাশি বহু পরিবারের স্বনির্ভরতার পথও খুলে দিতে পারে লাল জবার এই মালা।





