কলকাতা, ৯ আগস্টঃ ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ স্বাধীনতার দাবিতে ১৯৪২-এর ৯ আগস্ট যে স্লোগানে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ, ৮৪ বছর পর সেই ঐতিহাসিক দিনেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের বার্ষিকীতে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দেন তিনি।
এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ১৯৪২ সালের ঐতিহাসিক ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৮৪তম বার্ষিকী পালন করছে দেশ। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের লক্ষ্যে সে দিন সমগ্র জাতি এক কণ্ঠে উচ্চারণ করেছিল ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’। সেই সংগ্রামে দেশের হাজার হাজার মানুষ আত্মত্যাগ করেছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল একটাই আগামী প্রজন্ম যেন স্বাধীন দেশের মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারে।
৯ আগস্টের তাৎপর্যপূর্ণ দিনে সেই সমস্ত সাহসী স্বাধীনতা সংগ্রামীকে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, তাঁদের অতুলনীয় বীরত্ব এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উপরই গড়ে উঠেছে স্বাধীন ভারতের ভিত্তি।
তবে ৯ আগস্টের দিনটি এ বার অন্য একটি কারণেও তাৎপর্যপূর্ণ। জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে যাঁরা গ্রেফতার, কারাবাস এবং নির্যাতনের মুখে পড়েছিলেন, তাঁদের সম্মান জানাতে বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্য সরকার। ‘লোকতন্ত্র সেনানি’ নামে তাঁদের সম্মান জানানো হবে।
‘পশ্চিমবঙ্গ গণতন্ত্র যোদ্ধা সম্মাননা প্রকল্প’-এর আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আজীবন মাসে ১০ হাজার টাকা সম্মানমূল্য পাবেন বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মাসে ১ হাজার টাকা চিকিৎসা-সহায়তা, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওষুধের সুবিধাও থাকবে। রাজ্যের রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহণে বিনামূল্যে যাতায়াত এবং পরিচয়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
কোনও উপভোক্তার মৃত্যু হলে নির্ধারিত নিয়মে তাঁর স্বামী বা স্ত্রীও সুবিধা পাবেন। ফলে এক দিকে ১৯৪২-এর স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মরণ, অন্য দিকে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের যোদ্ধাদের সম্মান ৯ আগস্টকে ঘিরে ইতিহাস ও বর্তমান, দুইয়েরই সেতুবন্ধন তৈরি করল রাজ্য সরকারের এই কর্মসূচি।





