বর্ধমান, ৩১ জুলাইঃ বর্ধমানের একটি আবাসনের জিমে শরীরচর্চা চলছিল। বাইরে থেকে দেখে কিছুই অস্বাভাবিক মনে হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সেই জিমেই হানা দিয়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (এটিএস)। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিস্তারিত সফরসূচি। সেই তথ্য ঘিরেই রাজ্য জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ধৃতের নাম হামিদ মণ্ডল। বাড়ি হাওড়ার পিলখানায়। পেশায় গেঞ্জি কারখানার কর্মী হলেও প্রায় দু’মাস আগে তিনি বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার জিমে ব্যায়াম করার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামিদ জইশ-ই-মহম্মদের সক্রিয় সদস্য এবং কাশ্মীরের কুখ্যাত জঙ্গি সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, তিনি পাকিস্তানে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং আইএসআই-এর হয়ে ‘হ্যান্ডলার’ হিসেবে কাজ করতেন বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের। এই সমস্ত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফরসূচির বিস্তারিত তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। কোথায় সভা, কখন যাত্রা, কোন রুট ব্যবহার করা হবে, গাড়ি কোথায় দাঁড়াবে, কখন তিনি গাড়ি থেকে নামবেন বা উঠবেন এমন একাধিক সংবেদনশীল তথ্য তাঁর কাছে ছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পাশাপাশি আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সফরসূচিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এসটিএফ এখন খতিয়ে দেখছে, হামিদ একাই কাজ করছিলেন, নাকি কোনও বৃহত্তর জঙ্গি নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনা এগোচ্ছিল। কার নির্দেশে তিনি কাজ করছিলেন, তাঁর সঙ্গে আর কারা যোগাযোগ রাখত এবং রাজ্যের অন্য কোথাও একই ধরনের নাশকতার ছক ছিল কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, তদন্তে উঠে এসেছে পুলওয়ামা হামলায় ব্যবহৃত গাড়ির মালিক এবং জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য সাজ্জাদ ভাটের নামও। ২০১৯ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত সেই জঙ্গির গোষ্ঠীর সঙ্গে হামিদের যোগাযোগ ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। শুক্রবার ধৃতকে আদালতে পেশ করে হেফাজতের আবেদন জানাবে এসটিএফ। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর গোয়েন্দা মহলের।





