কোচবিহার, ২৯ জুলাইঃ কোচবিহারে এসইউসিআই-এর ছোট্ট একটি পার্টি অফিস। সেই পার্টি ভাঙচুরের অভিযোগ। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই বুধবার রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল শহরে। এসইউসিআই-এর অভিযোগ, ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দিতে একদল ব্যক্তি তাদের পার্টি অফিসে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেছে দলের নেতৃত্ব। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্বরা।
ওই ঘটনার পর পার্টি অফিসে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতির ছবি তুলে ধরেন এসইউসিআই নেতারা। তাঁদের দাবি, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকে তাঁরা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলেও মন্তব্য করেন।
এসইউসিআই নেতৃত্বের আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থল থেকে অল্প দূরত্বেই বিধানসভার স্পিকারের বাসভবন রয়েছে। সেই এলাকায় নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রকাশ্যে এমন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই সংশয় তৈরি হচ্ছে।
একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের ঘোষিত ‘গুণ্ডা দমন নীতি’ নিয়েও প্রশ্ন তোলে এসইউসিআই। দলের বক্তব্য, সরকার যখন সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছে, তখন রাজনৈতিক দলের অফিসে হামলার অভিযোগ সামনে আসা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন ঘটনার পুনরায় যাতে না ঘটে তারজন্য অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে এসইউসিআই। পাশাপাশি তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটবে দল।
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। কোচবিহার জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি বিরাজ বোস বলেন, “ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই কিছু সিপিএম ও তৃণমূল কর্মী গেরুয়া আবির মেখে, মাথায় ফেট্টি বেঁধে নিজেদের বিজেপি কর্মী বলে পরিচয় দেওয়ার বা দলে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু রাজ্য সভাপতির স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, কোনও যোগদান করানো যাবে না। তাই তাঁদের দলে নেওয়া হয়নি। শুনেছি এসইউসিআই-এর দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন মনীষীর ছবিও নষ্ট করা হয়েছে। যারা এমন কাজ করেছে, তারা মানুষ নয়, অমানুষ। পুলিশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক। তবে এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও কর্মীর কোনও যোগ নেই। আমাদের দল কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ভাঙচুরের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বরং কিছুদিন আগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বামফ্রন্টের দখল হয়ে যাওয়া দলীয় কার্যালয় উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ার নজিরও আমাদের রয়েছে। তাই যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা বিজেপির কেউ নয়।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই সবার নজর এখন।





