কলকাতা, ১৩ মেঃ বিধানসভার সিঁড়িতে হাঁটু গেড়ে নতজানু হয়ে প্রণাম করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর নিজের দপ্তরে বিশেষ পুজো সেরে বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। বুধবার বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর এই অভিনব পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অনেকেই এই দৃশ্যের সঙ্গে ২০১৪ সালে সংসদ ভবনে প্রবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র প্রণাম করার মুহূর্তের মিল খুঁজে পেয়েছেন।
গত শনিবার ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বুধবার বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু। বেলা ১১টার কিছু পরে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। এরপর একে একে শপথ নেন অন্যান্য বিজেপি বিধায়করা। বুধবার ও বৃহস্পতিবার এই দু’দিনে মোট ২৯০ জন বিধায়কের শপথগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হবে।
এদিন সকাল থেকেই বিধানসভা চত্বরে ছিল সাজসজ্জার বিশেষ আয়োজন। মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের আগে লাল কার্পেটে মুড়ে ফেলা হয় রাস্তা। বিধানসভায় পৌঁছনোর পর তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। পরে সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকর -এর মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
বিধানসভায় ঢোকার আগে জুতো খুলে সিঁড়িতে প্রণাম করার দৃশ্য নজর কাড়ে উপস্থিত সকলের। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। পুজো শেষে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী।
উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। সংবিধান অনুযায়ী একটি আসনই ধরে রাখা সম্ভব। ফলে রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার মাধ্যমে কার্যত নন্দীগ্রাম আসন ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জেরে আগামী দিনে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।





