আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

বাংলাদেশে ১০১ দিন জেলবাসের পর দেশে ফিরলেন সোনালী খাতুন, দিল্লি পুলিশের অত্যাচারের অভিযোগ

Published on: December 6, 2025
---Advertisement---

মালদা, ৬ ডিসেম্বরঃ বাংলাদেশে প্রায় আট মাস অমানিশার মধ্যে কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরলেন বীরভূমের বাসিন্দা সোনালী খাতুন। জুন মাসে দিল্লিতে শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ, এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তাঁর। এরপর কোনও তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বিএসএফের মাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়। সেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংশোধনাগারে ১০১দিন জেলবন্দী থাকতে হয়েছে তাঁকে। গতকাল মহদীপুর সীমান্ত দিয়ে নিজের আট বছরের সন্তানকে নিয়ে ভারতে ফিরেই আবেগে ভেসে পড়লেন সোনালী।

আজ মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সোনালী খাতুন বলেন, “বাংলাদেশে খুব কষ্টে ছিলাম। দিল্লি পুলিশের অমানবিক অত্যাচার ভুলব না কোনোদিনও। আমরা অনেক অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু কেউ শুনল না। বিএসএফকে দিয়ে আমাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখন আর কোনওদিনও দিল্লি যাব না।” দেশে ফিরতে সাহায্য করায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বাংলাদেশ থেকে ফেরার পর সোনালী ও তাঁর সন্তানকে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আজই বীরভূমের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন মা ও সন্তান। দীর্ঘ আট মাসের মানসিক চাপ ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় এখনও আতঙ্কিত সোনালী। তাঁর কথায়, “ওই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনও গা শিউরে ওঠে। কারাগারে সন্তানকে নিয়ে যে দুরবস্থা পোহাতে হয়েছে, কোনওদিন ভুলবো না।”

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোনালীর বাবা ভদু সেখও। তিনি বলেন, “মেয়েকে যে কারণে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তা অবিশ্বাস্য। বাংলা ভাষায় কথা বলায় কেউ কী করে গ্রেফতার হতে পারে? তারপর কোনও বিচার ছাড়াই পুশব্যাক! মেয়ের ফিরে পাওয়া যেন নতুন করে জীবন ফিরে পাওয়া।”

জুন মাসের ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। দিল্লি পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরাও। তাঁদের দাবি, ভাষার ভিত্তিতে কাউকে আটক করা সাংবিধানিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।

দেশে ফিরেই সোনালী এখন শুধু স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। আট মাসের দুঃস্বপ্ন যেন শেষ হয়েছে তাঁর কাছে। তবে দিল্লি পুলিশের অত্যাচার এবং বাংলাদেশে বন্দিজীবনের স্মৃতি তাঁর মনে এখনও তাজা। সামনে কীভাবে এগিয়ে যাবেন তা নিয়ে ভাবনায় থাকলেও আপাতত পরিবারের সঙ্গে নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিয়েই স্বস্তিতে সোনালী।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment