নন্দীগ্রাম, ৩১ আগস্টঃ একুশে যে নন্দীগ্রাম তাঁকে প্রথম বার বিধানসভায় জয়ের স্বাদ দিয়েছিল, ছাব্বিশে সেই নন্দীগ্রামেই ফিরেছেন ‘ঘরের ছেলে’ শুভেন্দু অধিকারী। এ বার অবশ্য প্রার্থী হিসাবে নয়, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। সোমবার রেয়াপাড়ায় প্রশাসনিক সভা থেকে নন্দীগ্রামের জন্য একের পর এক প্রকল্পের ঘোষণা করলেন তিনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, যোগাযোগ থেকে কর্মসংস্থান প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে তাঁর বার্তা, ‘‘ভোট দেননি তো কী, আমি সবার মুখ্যমন্ত্রী।’’
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও লড়েছিলেন শুভেন্দু। নিয়ম অনুযায়ী একটি কেন্দ্র ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নন্দীগ্রামে প্রথম সফরেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কেন্দ্র ছাড়লেও নন্দীগ্রামকে তিনি ভুলবেন না। সোমবারের প্রশাসনিক বৈঠক যেন সেই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব হিসাব।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত সাড়ে তিন থেকে চার মাসে নন্দীগ্রামে ৩২টি রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ হয়েছে। ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গড়া এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও কাজ হবে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত রেল যোগাযোগ নিয়েও আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, রেলকে প্রয়োজনীয় জমির একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে বাকি জমির কাজও শেষ হবে। নন্দীগ্রাম-বটতলা স্টেশন থেকে বাজকুল পর্যন্ত প্রথম ট্রেনে নিজেই যাত্রা করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
পরিবারের স্বস্তির দিক থেকেও একাধিক ঘোষণা এসেছে। চলতি বছরে নন্দীগ্রামে ১১ হাজার ৭০০টি নতুন বাড়ি তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। উপভোক্তাদের প্রথম কিস্তি হিসাবে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের সূচনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে রেয়াপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৬০ শয্যার পরিষেবা, নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে নতুন মাতৃভবন, সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে জনৌষধি কেন্দ্র এবং ‘মা-আহার’ ক্যান্টিন চালুর কথা জানানো হয়েছে। হরিপুরে দমকল কেন্দ্র এবং পুলিশ মর্গ তৈরির ঘোষণাও হয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিকাঠামোগত বার্তা হল হলদিয়া-নন্দীগ্রাম সেতু। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভূমিপূজন থেকে প্রথম গাড়ি চালানো দুই ক্ষেত্রেই নিজে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রাজনীতির ময়দানে নন্দীগ্রাম বরাবরই প্রতীকি। সেই নন্দীগ্রামেই সোমবার উন্নয়নের তালিকা হাতে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ভোটের অঙ্ক শেষ হলেও সরকারের দায়িত্ব শেষ হয় না। এখন সেই প্রতিশ্রুতির কতটা মাটিতে নামে, অপেক্ষা তারই।





