কলকাতা, ৩১ আগস্টঃ ক্যামাক স্ট্রিটের অশান্তির আঁচ এ বার পৌঁছল শেক্সপিয়র সরণি থানার দরজায়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে থানায় গেলেন না সাংসদ। তার আগেই আইনজীবীর মাধ্যমে পুলিশকে চিঠি পাঠিয়ে সাত দিন সময় চেয়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রের খবর, ডেরেককে ফের নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
গত ২৭ অগস্ট বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে পুরসভার আধিকারিকেরা পৌঁছন। অভিযোগ ছিল, দফতরের অনুমতি ছাড়াই লাগানো বিলবোর্ড খোলা হবে। সেই কাজ ঘিরেই উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের সঙ্গে অফিসের নিরাপত্তারক্ষীদের ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগেও মামলা হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডেরেক। পুলিশের অভিযোগ, তিনিও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সূত্রেই রবিবার সকালে তাঁর প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের বাড়িতে যায় শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। কয়েক বার ডাকাডাকির পর এক প্রতিনিধি বেরিয়ে এসে নোটিস গ্রহণ করেন।
এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। এক দিকে সরকারি জমি, অনুমোদন ও প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ, অন্য দিকে শাসকদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার দফতর দুইয়ের সংঘাতকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন চাপানউতোর। পুলিশি তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে রাজনীতি বনাম প্রশাসনের পুরনো প্রশ্ন।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বুধবার তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে থানায় তলব করা হয়েছে। অভিষেকের আইনজীবী অর্ক নাগ অবশ্য কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে নোটিস ও এফআইআর আপলোড না করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি জানিয়ে পুলিশকে ই-মেল করা হয়েছে।
অর্থাৎ, ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড খুলতে গিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত এখন একাধিক নোটিস, পাল্টা আইনি প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর্যায়ে। ডেরেকের সাত দিনের সময়ের আবেদন পুলিশ মঞ্জুর করবে, নাকি ফের নোটিস পাঠাবে এখন নজর সেদিকেই।





