কলকাতা, ৩১ আগস্টঃ আগস্ট শেষ। কিন্তু শেষ হল না তৃণমূলের ‘ঘরের যুদ্ধ’। দলের প্রতীক এবং তহবিল কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের টানাপড়েনের এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত না আসায় সোমবার, অগস্টের শেষ দিন ফের কমিশনের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বার্তা স্পষ্ট আর দেরি নয়, দ্রুত ফয়সালা হোক।
সূত্রের খবর, কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে মমতার বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে ‘বহুদিন পার হয়ে গিয়েছে’। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। শুধু মমতার চিঠিই নয়, কয়েক জন বিধায়কের চিঠিও নাকি তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে অভিযোগ, তাঁদের ‘ভুলপথে পরিচালিত’ করা হচ্ছে। তবে ওই বিধায়কেরা কারা, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ দ্রুত বদলেছে। অধিকাংশ বিধায়ক ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি ওই পক্ষের। দিল্লিতেও সাংসদদের একাংশ দল ছেড়েছেন। কয়েক জন রাজ্যসভার সাংসদ সরাসরি বিজেপিতে গিয়েছেন বলেও দাবি রয়েছে। ফলে দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শুরু হয় টানাপড়েন।
প্রতীক শুধু একটি দলের নির্বাচনী পরিচয় নয়। ভোটের ময়দানে সেই প্রতীকই প্রার্থীর পরিচিতি, কর্মীদের সংগঠিত করার হাতিয়ার। একই সঙ্গে দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণও রাজনৈতিক ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে অপেক্ষা যত দীর্ঘ হচ্ছে, দুই শিবিরের উদ্বেগও তত বাড়ছে।
আগেই দুই পক্ষকে নিজেদের দাবি ও তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। কালীঘাটপন্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি জমা দিলেও ঋতব্রত শিবির অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল। তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল মমতার শিবির। পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষের নথি খতিয়ে দেখেই আইনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এখন প্রশ্ন, মমতার চিঠির সঙ্গে থাকা বিধায়কেরা কারা? তাঁরা কি ঋতব্রত শিবির থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছেন? নাকি এটি নিছক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ? উত্তর মিলবে কমিশনের সিদ্ধান্তে। তবে তার আগে তৃণমূলের ‘ঘর’-এর ভিতরের ফাটল আরও কতটা চওড়া হয়, নজর সেদিকেও।





