কলকাতা, ৩১ আগস্টঃ ক্যামাক স্ট্রিটে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এ বার ঢুকে পড়ল অগ্নিসুরক্ষার প্রশ্ন। বিলবোর্ড বিতর্ক, পুলিশি নোটিস, সাংসদদের হাজিরা তারই মধ্যে সোমবার দুপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পৌঁছে গেল দমকল। সঙ্গে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ এবং পুরসভার আধিকারিকেরা। উদ্দেশ্য, সাততলা ভবনটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আদৌ নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর পর শহরের বহুতলগুলিতে শুরু হওয়া ফায়ার অডিটেরই অংশ হিসাবে এই পরিদর্শন বলে দমকলের দাবি।
প্রায় বেসমেন্ট থেকে ছাদ বাদ গেল না কোনও তলা। দমকলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে পাঁচ তলা পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় বড় কোনও ত্রুটি ধরা পড়েনি বলেই খবর। কিন্তু ছয় ও সাততলায় ছবিটা আলাদা। সেখানে ওয়াটার স্প্রিঙ্কলার, ওয়াটার রিজার্ভার, ফায়ার অ্যালার্ম-সহ একাধিক ব্যবস্থা সচল নয় বলে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে। ভবনের সামনের একটি শেড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দমকলের অনুমোদন ছাড়াই সেটি তৈরি হয়েছে বলে প্রাথমিক পরিদর্শনের পরে জানিয়েছে দমকল।
ঘটনাটি অবশ্য নিছক প্রশাসনিক ‘রুটিন অডিট’ হিসাবেই দেখছে দমকল। কিন্তু সময়ের কারণে তাৎপর্য বাড়ছে। কারণ, গত ২৭ আগস্ট এই ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ঘিরেই পুরসভা ও পুলিশের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘাত তৈরি হয়েছিল। ‘বেআইনি’ বিলবোর্ড খুলতে গিয়ে ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় একাধিক মামলা, গ্রেফতার এবং তলবের পর এ বার একই ঠিকানায় দমকলের পরিদর্শন নতুন মাত্রা যোগ করল।
অন্য দিকে, এফআইআর ও নোটিসের অনলাইন কপি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে অভিষেকের আইনি টানাপড়েনও চলছে। মঙ্গলবার তাঁকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় ডেরেক ও’ব্রায়েন হাজিরা এড়িয়ে সময় চেয়েছেন।
ফলে একদিকে রাজনৈতিক সংঘাত, অন্যদিকে প্রশাসনিক নজরদারি ক্যামাক স্ট্রিটের সাততলা ভবনটি এখন যেন কলকাতার বড় এক প্রশ্নের প্রতীক: রাজনীতির উত্তাপ যতই বাড়ুক, অগ্নিসুরক্ষার প্রশ্নে কি কোনও আপসের জায়গা আছে?





