কলকাতা, ৯ আগস্টঃ থার্মোকলের বাক্স। বাইরে থেকে দেখলে আর পাঁচটা সাধারণ প্যাকেজের মতোই। কিন্তু ভিতরে যে এমন ‘সম্পদ’ লুকিয়ে রয়েছে, তা আঁচ করতে পারেননি কেউই। কলকাতা বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক কার্গো বিভাগে সন্দেহ হওয়ায় চারটি থার্মোকলের বাক্সে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের। প্যাকেটের পর প্যাকেট ভর্তি দুর্লভ ‘সাপের মাথা’!
তবে সেগুলি কোনও সাপের মাথা নয়। আসলে দুর্লভ প্রজাতির মাছ ‘চান্না বার্কা’। বিদেশে ‘স্নেক হেড ফিশ’ নামে পরিচিত এই মাছ মূলত বড় বড় অ্যাকোয়ারিয়ামে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। বিরল প্রজাতির হওয়ায় বাজারে এর দামও আকাশছোঁয়া।
শনিবার দমদম বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক কার্গো বিভাগে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। চারটি থার্মোকলের বাক্সে করে ওই মাছ মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল বলে খবর। বুকিং করেছিলেন ‘অ্যাকোয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক হিন্দোল হালদার। খবর পেয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছন ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর আধিকারিকেরা। বাক্স খুলতেই বেরিয়ে আসে বিপুল সংখ্যক দুর্লভ মাছ। মোট প্রায় ৫৫০টি মাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক হিসাব বলছে, মাছগুলির এক-একটির দাম ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা, এমনকি তারও বেশি হতে পারে। আকার এবং গুণমানের উপর নির্ভর করে দাম ওঠানামা করে। ২৫ সেন্টিমিটার আকারের একটি মাছের বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। আর ১০ সেন্টিমিটার মাছের দাম প্রায় ৩০ হাজারের কাছাকাছি।
অর্থাৎ সব মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত মাছগুলির বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরের কার্গো বিভাগ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর এই চেষ্টা ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই ব্যবসায়ী এবং মাছগুলি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তারও খোঁজ চলছে। বিরল প্রজাতির এই মাছ বৈধ পথে রফতানি করা হচ্ছিল, নাকি বন্যপ্রাণ পাচারের চক্রের সঙ্গে যোগ রয়েছে এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।





